বিদ্যালয়ের সভাপতি-প্রধান শিক্ষকসহ সবাই এক পরিবারের!

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩০ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন একই পরিবারের বলে অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত ওই বিদ্যালয়ের নাম শিয়ালকোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের শিয়ালকোট বাজারে অবস্থিত এ বিদ্যালয়ে গোপনে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন, শিয়ালকোট গ্রামের মেনহাজুল ইসলাম। তার ছোট ভাই মোজাম্মেল হকের স্ত্রী খাদিজা বেগম বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোজাম্মেল হকের ছোট ভাই রাশেদুল ইসলাম, পরিচ্ছনতাকর্মী মেনহাজুল ইসলামের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী সাজেদা বেগম, নৈশপ্রহরী পদে মামাতো ভাই মামুন ও অফিস সহকারী পদে আছেন মেনহাজুল ইসলামের ভাতিজা শাহাজাদা। এর বাইরে বিদ্যালয়ে আর কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী নেই। 

বিদ্যালয়টি মাত্র এক বছর আগে ২০২৩ সালে এমপিওভুক্ত হলে অবাক হয় এলাকাবাসী। কারণ বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ছিল না কোনো ছাত্র-ছাত্রী। পার্শ্ববর্তী অন্য বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী (উপবৃত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে) ভাড়া করে নিজেদের ছাত্র-ছাত্রী পরিচয়ে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাত। কাগজে-কলমে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্তির আবেদন করা হলেও কার্যত বিদ্যালয়টি ছিল একটি কিন্ডারগার্টেন। 

এমন অভিযোগের সূত্র ধরে এই প্রতিবেদক একাধিকবার বিদ্যালয়টিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কিংবা কোনো সহকারী শিক্ষকের দেখা পাননি। বিদ্যালয়টিতে কখনো ৮ থেকে ১০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতিও দেখা যায়নি। তাদের পাঠদান করাতে দেখা গেছে দপ্তরিকে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মোবাইলে যতবার ফোন দেওয়া হয় ততবারই তার স্বামী মোজাম্মেল হক ফোন ধরেন। স্ত্রীর অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে তিনিই বিদ্যালয় সম্পর্কে নানা তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বামী মোজাম্মেল হক পার্শ্ববর্তী আরজি দেবীপুর শিয়ালকোট আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনিই শিয়ালকোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সর্বেসর্বা। তার ইচ্ছাতে ওই বিদ্যালয়ের সবকিছুই হয়। কমিটি গঠন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করায় এলাকার কেউ এসব বিষয়ে জানতে পারেন না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত বুধবার বিদ্যালয়টির মাঠে সমবেত হয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক প্রধান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় জমি দানকারী দাতা পরিবারের সদস্য শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও এসব অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো প্রতিকার পাইনি।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত