রাজশাহীতে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি করব

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৫ এএম

এবারের ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ রাজশাহীতে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘পটু’। সংগীত পরিচালক আহমেদ হুমায়ূন হঠাৎ করেই ঢাকা থেকে নিজের গ্রামে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। শুধু তাই নয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে প্রথম কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেন। আহমেদ হুমায়ূনের এই নির্মাণের গল্প শুনেছেন মাহতাব হোসেন

আপনি সংগীত পরিচালক, হঠাৎ নির্মাণে এলেন কেন?

আমি সংগীত পরিচালক এটা সত্য। ঢাকায় আমি অজস্র গানের কাজ করেছি। জনপ্রিয় হয়েছে সেসব। আমি একসময় গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং চলে গেলাম। ভাবলাম রাজশাহীতে একটা প্রোডাকশন হাউজ খুলব। গানের পাশাপাশি আমি নাটক সিনেমা নির্মাণ করব। নিজে নির্মাণ করব ভাবিনি। কিন্তু হয়ে গেল।

এই ‘হয়ে গেল’র গল্পটা বাকি আছে। সেটা যদি বলতেন...

রাজশাহী শহর পদ্মার পাশেই জানেন। আমরা একদিন কভিডের পরে পদ্মার চরে বেড়াতে গেছি। হঠাৎ মনে হলো আমরা চরের শেষ প্রান্তে যাব। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে আমরা যেখানে এলাম সেখানে আবার নদী। সেটুকুও পেরোলাম। এরপর গ্রাম। এটা একদম জনবিচ্ছিন্ন গ্রাম, এই গ্রাম শুধু পদ্মা দিয়ে বিচ্ছিন্ন নয়, মনে হবে পুরো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানের মানুষের জীবনযাপন আমাকে খুব স্পর্শ করল। তখনই আমার মাথায় গল্প চলে এলো।

কিন্তু নিজেই পরিচালনা করবেন, কিংবা চলচ্চিত্র পরিচালক হবেন ভাবলেন কখন?

সেটাই বলছি। এটা নিয়ে আমার প্রোডাকশন টিমের সঙ্গে কথা বললাম, তাদের জানালাম সিনেমাটা বানাব। তখন এটা পরিচালনা কে করবে সেটা নিয়ে ভাবা হচ্ছিল। আমার টিমের ছেলেরা আমাকেই সাজেস্ট করল। আমি বিষয়টি ভাবলাম। আমার খুব কাছের মানুষ পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী। তাকে বললাম। ইফতেখার ভাই আমাকে সাহস দিলেন। বললেন, বিশ্বের অনেক মিউজিশিয়ান সিনেমা বানিয়েছে। শুরু করলাম।

সিনেমাটি বানাতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন কোনো?

হ্যাঁ। আপনি চিন্তা করতে পারেন, প্রথমে তিন কিলোমিটার নৌকায় করে জলপথ তারপর, চরে ৭ কিলোমিটার হাঁটা, এরপর আবার পানি। সেটা পেরিয়ে গ্রাম। যেখানে কোনো ইলেক্ট্রিসিটি নেই, নেই আধুনিক সুবিধা। গ্রামের মানুষগুলো যেন আধুনিক সভ্য পৃথিবী দেখেনি। সেই গ্রামে ২২ দিন টানা শুটিং করেছি। সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামে একদিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকটা গাড়ি চলে এল। প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও তারা সিনেমার কথা শুনে আমাদের সহায়তা করেছে।

এই সিনেমার শিল্পী কারা, কেমন অভিনয় করেছে তারা, আপনার দৃষ্টিতে?

অধিকাংশ শিল্পী রাজশাহীর। চারজন শিল্পী ঢাকা থেকে আসা। সবাই খুবই ভালো করেছে। কেউ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলায় পড়া, কেউ একেবারে অভিনয় জানে না। এদের নিয়েই কাজ করেছি। আমি সন্তুষ্ট।

রাজশাহীতেই একটা সিনেমা নির্মাণ করে ফেললেন, চলচ্চিত্র নিয়ে বড় পরিকল্পনা আছে?

দেখেন এটা একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটাই মনে হয় প্রথম ঢাকার বাইরে সম্পূর্ণ সিনেমা বানানো হলো। এই সিনেমার ওয়ান ম্যান আর্মি আমি। পরিচালক, কস্টিউম ডিজাইন, সংগীত, চিত্রনাট্য সবকিছুই আমার করা। এই প্রযুক্তির যুগে ক্ষেত্রবিশেষে ঢাকা যেতে হয়, কিন্তু সব কিছু সব জায়গা থেকেই করা সম্ভব। আমি এই রাজশাহীতেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলব। কারণ এখানে সব আছে। এখন সবার সহায়তা পেলে এখান থেকে নিয়মিত সিনেমা বানাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত