হাইকোর্টের নির্দেশ

এমপিও শিক্ষকদের অবসর সুবিধা দিতে হবে ৬ মাসের মধ্যে

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩০ এএম

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা ছয় মাসের মধ্যে দিতে হবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুলের শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রিট আবেদনকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশে ৩৯ হাজার এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারী আছেন সাড়ে ৫ লাখের মতো। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অবসর সুবিধা বোর্ডের নামে ৪ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের নামে ২ শতাংশসহ ৬ শতাংশ কর্তন করা হতো। ২০১৭ সালের এপ্রিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক  বিজ্ঞপ্তিতে কর্তনের বিধান সংশোধন করে যথাক্রমে ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশসহ ১০ শতাংশ কর্তনের বিধান করা হয়। তবে আগের ৬ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হলেও অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীরা কোনো বাড়তি সুবিধা পাননি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে আবেদন করেও বিফল হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ১৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারী। ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল দেয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল এ রায় হলো।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট বলেছে, শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা। কিন্তু কিছু কতিপয় ব্যক্তির কারণে তারা তাদের অবসরজনিত সুবিধা পেতে ভোগান্তির শিকার হন। এখন হাইকোর্টের রায়ে অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ফান্ড যাই হোক এটা ছয় মাসের মধ্যে দিতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত