টাকার ভাগ নিয়ে মরদেহ দাফনে ভাই-ভাতিজার বাধা, তিনদিন পর দাফন

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৪২ পিএম

ব্যাংকের টাকা ও সম্পত্তি নিজ স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার কারণে মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন আটকে দেন ভাই-ভাতিজারা। তিনদিন পরে গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহের দাফন সম্পন্ন করা হয়। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পলাশবাড়ী উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের মোতাহার হোসেন মুন্সি অসুস্থ হয়ে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে মোতাহার হোসেনের মরদেহ দাফনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামের বাড়ি মাঝিপাড়ায় নিয়ে আসেন তার স্ত্রী মাসুমা বেগম। 

কিন্তু টাকা ও সম্পত্তি লিখে দেওয়ার অভিযোগে, মরদেহ দাফনে বাধা দেন মোতাহার হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সী ও তার ভাতিজা হাবিবসহ পরিবারের কয়েকজন। 

তাদের অভিযোগ, কিছুদিন আগে মোতাহার আলী তার নিজ নামের জমি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা বিক্রি করে ব্যাংকে রাখেন। সেই টাকা ও সব সম্পত্তি মাসুমা বেগম নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে মরদেহ নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে মরদেহ দাফন করা হয়। 

জানা গেছে, মৃত মোতাহার হোসেন মুন্সী গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার স্ত্রী মাসুমা বেগমকে নিয়ে তিনি ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের কোন সন্তান নেই। সম্প্রতি মোতাহার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। পরে ঢাকায় জমি বিক্রি করে তিনি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখেন। এই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা চলছিল।

এ বিষয়ে বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিঃসন্তান মোতাহার আলীর ভাই-ভাতিজারা মরদেহ দাফনে আপত্তি জানানোর কারণে তা বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল। পারিবারিকভাবে অর্থ সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। মোতাহার আলীর স্ত্রী মাসুমা বেগম ৬০ লাখ টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন। মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে লাশ দাফন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত