বিনাইন টিউমার বিপজ্জনক নয়

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৫ এএম

ডা. মো. ফরহাদ আহমেদ

ব্রেন, নিউরোভাসকুলার ও স্পাইন সার্জারি বিশেষজ্ঞ নিউরো সার্জারি বিভাগ, জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, আগারগাঁও, ঢাকা

ক্যানসার নিয়ে মানুষ সচেতন। আবার ক্যানসার নিয়ে ভীতির কারণও আছে। তাই কোন ধরনের টিউমার ক্যানসার সৃষ্টি করে আর কোন ধরনের টিউমার ক্যানসার সৃষ্টি করে না জানতে হবে। টিউমার হলো শরীরের অস্বাভাবিক টিস্যু পি- যার কোষ বৃদ্ধি হয় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দ্রুত, অনিয়ন্ত্রিত ও সমন্বয়হীনভাবে। কোষের ধরন ও আচরণ অনুসারে টিউমার দুই ধরনের। বিনাইন এবং ম্যালিগনেন্ট। বিনাইন টিউমার বিপজ্জনক নয়। এই টিউমারের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে এটি একটি আবরণ দ্বারা বেষ্টিত, ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, আশপাশে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে ছড়ায় না, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভালো হয়। তবে ম্যালিগনেন্ট টিউমার খুবই বিপজ্জনক। এটি স্বভাবতই আবরণ দ্বারা বেষ্টিত থাকে না। ফলে বৃদ্ধি হয় অনিয়ন্ত্রিত ও অগোছালভাবে, বৃদ্ধি ঘটে দ্রুত, আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে, রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই আমরা ক্যানসার নামে জানি। শরীরের অন্য কোথাও ক্যানসার হলে (যেমন- ফুসফুস, থাইরয়েড, খাদ্যনালি, কিডনি, মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট), অনেক ক্ষেত্রেই সেটা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যেতে পারে, যেটাকে মেটাস্টাটিক টিউমার বলে। ক্যানসার আক্রান্ত হলে যেসব লক্ষণগুলো দেখা যায়। ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, রক্তশূন্যতা, অল্প সময়ে ওজন কমে যাওয়া, দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। একই সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা প্যারালাইসিস, কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, বমি, ঘনঘন খিঁচুনি, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা এ ধরনের উপসর্গ নিয়েও ডাক্তারের কাছে আসতে পারে।

চিকিৎসা : সার্জারি করে টিউমার বের করে আনলে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেডিওকেমোথেরাপি নিলে, রোগী অনেক দিন বেঁচে থাকেন। রোগীদের ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপিরও প্রয়োজন হয়।

অস্ত্রোপচার : ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশপাশের কোষগুলোকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। ক্যানসার যদি অল্প একটু জায়গা জুড়ে থাকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রেডিওথেরাপি : নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের অংশবিশেষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে সেই জায়গার কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়।

কেমোথেরাপি  :  ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করতে অ্যান্টি-ক্যানসার (সাইটোটক্সিক) ড্রাগস বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের কেমিওথেরাপি ওষুধ রয়েছে। এগুলোর কোনো কোনোটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল হিসেবে খেতে হয়। ওষুধগুলোকে স্যালাইনের সঙ্গে বা অন্য কোনোভাবে সরাসরি রক্তে দিয়ে দেওয়া হয়। রক্তের সঙ্গে মিশে এই ওষুধগুলো শরীরের যেখানে যেখানে ক্যানসার কোষ রয়েছে সেখানে গিয়ে ক্যানসার কোষগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত