পরিচালকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৯ এএম

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) বাণিজ্য শাখার পরিচালক এসএম আশিকুজ্জমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। যার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এরই মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের উপসহকারী পরিচালক কেএম আসাদুজ্জামান এ অনুসন্ধান কাজের নেতৃত্বে রয়েছেন। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক এসএম আশিকুজ্জমান এবং করপোরেশনের বাণিজ্যিক বিভাগের প্রান্তিক অধীক্ষক মহসিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ জমা পড়ে। আশিকুজ্জমানের বিরুদ্ধে এর আগে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। দুদক এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। কমিশন অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপসহকারী পরিচালক কেএম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দেয়। তিনি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস ও রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠান। দুদকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক বিভাগের প্রান্তিক অধীক্ষক মহসিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনসংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান ও তার স্ত্রী ফারজানা হকের নামে কোনো জমি, প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি, দোকান থাকলে তার তথ্য দুদকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়, আশিকুজ্জামান এজিএম ফিডার পদে দুই বছর পূর্ণ না করেই ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল ডিজিএম (সাময়িক) পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। ‘সাময়িক পদোন্নতি’ বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রবিধানমালায় নেই। এরপর তিনি ২০১৮ সালের ৬ জুন পরিচালক (বাণিজ্য) হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপরই তিনি বাণিজ্যিক শাখার অধীক্ষক মহসিন ভূঁইয়া ও তার সহযোগীদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অস্থায়ী হিসেবে ৬০০ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া প্রতিজনের কাছ থেকে ২-৩ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়। এ ছাড়া সংস্থার বিধিবিধান অমান্য করে ৪২ বছরের ইকবাল হোসেনকে সহব্যবস্থাপক (বাণিজ্য), ৪০ বছরের সজিব হাওলাদারকে ড্রাইভার এবং ৪৫ বছরের খালিদ হোসেনকে অর্ধদক্ষ মেকানিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টেন্ডারের মাধ্যমে আরিচা ফেরিঘাট এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে টেন্ডারে ২২ লাখ টাকা ডাক ওঠে। কিন্তু সেই ডাক বাতিল করে ১ জুলাই থেকে ৯৬ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ফেরিঘাট ইজারা দেওয়া হয়। এতে সরকারের ২১ লাখ ৪ হাজার টাকা গচ্চা যায়। এ ছাড়া টেন্ডার ছাড়াই পদ্মা সেতুর পিলার মেরামতে ১০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিসির এসটি জব্বার জাহাজে রোহিঙ্গাদের হাতিয়া থেকে ভাসানচর পারাপারের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর জাহাজটি টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই ২০২১ সালের ১১ মার্চ ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে পছন্দের ডকইয়ার্ডে মেরামত করান। একইভাবে আইভি রহমান জাহাজটি একই ডকইয়ার্ডে মেরামত করান। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী নামে দুটি জাহাজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। করপোরেশনের বাণিজ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এর মূল দায়িত্বে ছিলেন। টেন্ডারে একটি কোম্পানিকে জাহাজ তৈরির ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয় এবং এই খাতে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এত টাকা খরচের পর একটি জাহাজও পাওয়া যায়নি। পরিচালক আশিকুজ্জামান প্রায় ১৫ বছর ধরে বিআইডব্লিউটিসির অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় করপোরেশনের জমি দখল, বিভিন্ন কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিসহ সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব রয়েছে। আর এসব খাত থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এসএম আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত