সুন্নতে খতনা করতে গিয়ে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু আয়ান। এ ঘটনায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে বাবা শামীম আহমেদকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকির বিষয়টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত রবিবার অভিযোগ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় শিশু আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি একটাই কথা বলতে চাই। আজকে যদি আয়ান হত্যার সঠিক বিচার হতো তাহলে হয়তো রামপুরায় আবার শিশুর খতনা করাতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটত না, চিকিৎসকরা চাপে থাকত। মামলা হলেও আসামি ধরার জন্য পুলিশের তৎপরতা তেমন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মামলা করলেও কোনো অগ্রগতি নেই। জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। ফলে আমরা ডিবির শরণাপন্ন হয়েছি। ডিবি থেকে বলা হয়েছে তারা আমাদের অভিযোগ আমলে নেবে। কিছু কিছু ডাক্তার নামের কসাই আছে, যারা টাকার জন্য এ ধরনের ফুটফুটে শিশুদের হত্যা করছে মন্তব্য করে আয়ানের বাবা বলেন, আমার যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পূরণ হবে না। কিন্তু আমি চাই দেশের মানুষ সচেতন হোক, পাশাপাশি অভিভাবকরা সচেতন হোক।
ঘটনার দিনের কথা তুলে ধরে শামীম আহমেদ বলেন, সুন্নতে খতনা করাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটা দুই ঘণ্টায়ও শেষ হয়নি। মূলত আমার ছেলেকে সুন্নতে খতনা করানোর নামে ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়েছে। এই ক্লাস করাতে গিয়ে অতিরিক্ত অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ ও রক্তক্ষরণের কারণে আমার ছেলে মারা গেছে। এক ঘণ্টার একটা ক্লাসের বলি হতে হলো আমার ছেলে আয়ানকে।
ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, আগে এলাকায় কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়াই সুন্নতে খতনা করানো হতো। কিন্তু এখন কথিত কিছু অবৈধ ভুয়া ক্লিনিকগুলোতে ছোট ছোট শিশুদের খতনার নামে অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা হচ্ছে। কিন্তু পরে আর জ্ঞান ফিরছে না। এমনকি এসব ক্লিনিকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার অনুমোদনও নেই। আমাদের টিম কাজ করছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাবা-মায়ের কোল থেকে শিশু হারিয়ে যাবে, এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। তিনি আরও বলেন, আয়ানের বাবার বিষয়টি জেনেছি। এসব ঘটনায় থানাগুলোতে মামলা হয়েছে। ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত করছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আয়ানের বাবা শামীম আহমেদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে ডিবি প্রধান বলেন, আয়ানের বাবা ডিবিতে মামলা তদন্তের আবেদন করলে আমরা তদন্ত করব।
