স্কুল থেকে ফিরছিল দুই শিশু। প্রতি দিনই ওই রাস্তা ধরেই বাড়ি ফেরে তারা। এক জন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অন্য জন পঞ্চম শ্রেণিতে। স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে যাওয়ায় দুই বন্ধু গল্প করতে করতে বাড়ি ফিরছিল। তখন দুপুর ২টা। ফলে রাস্তাঘাটও একটু ফাঁকাই ছিল। হঠাৎই তারা দেখতে পায়, রাস্তার ধারে এক জায়গায় কয়েক হাজার টাকা ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে।
এত টাকা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখে থতমত খেয়ে যায় তারা। কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। একসঙ্গে এত টাকা, তা-ও আবার বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে! অনেকটা ইতস্তত করেই দুই বন্ধু মিলে টাকাগুলো কুড়িয়ে নিয়েছিল। তার পর মনে একটা আশঙ্কা নিয়েই সোজা ছুটে গিয়েছিল স্কুলে। তারা সোজা গিয়ে হাজির হয় প্রধানশিক্ষিকার ঘরে।
স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পরেও দুই শিশুকে দেখে অবাক হয়ে যান প্রধানশিক্ষিকা। এর পরই তাঁর নজর যায় দুই খুদের হাতে ধরা এক গুচ্ছ টাকার দিকে। দুই খুদের মুখ দেখে শিক্ষিকা বুঝেছিলেন, তারা বেশ ভয় পেয়েছে। শিক্ষককে ওই দুই খুদে জানায়, বাড়ি ফেরার সময় এই টাকাগুলি কুড়িয়ে পেয়েছে তারা। কিন্তু কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না। তাই তাঁকে এই টাকা দিতে এসেছে।
প্রধানশিক্ষিকা তখন ওই টাকা স্থানীয় থানায় জমা দিয়ে আসার জন্য দুই শিশুকে পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষিকার পরামর্শ মতো থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত পুলিশের হাতে সেই টাকা তুলে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পড়ুয়ার এই সততা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। টাকা পাওয়ার পরেও যে ভাবে ওরা থানায় এসে সেগুলো জমা দিয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বড়বাহ মহকুমার পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) অর্চনা রাওয়াত জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার পথে বিশাল এবং যশ নামে দুই পড়ুয়া ওই টাকা পেয়েছিল। ১০০, ২০০ এবং ৫০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৯০০ টাকা ছিল। সততার জন্য দুই খুদেকে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের খরগোনে।
কী হলো শিরিন শিলার, শুটিংস্পটে অসুস্থ কেন? 