প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হয়েছেন প্রীতম হাসান ও তাসনিয়া ফারিণ। তাদেরকে দেখা গেছে সদ্য মুক্তি পাওয়া অরিজিনাল ফিল্ম ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ তে। জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন পরিচালিত এ সিনেমাটি মুক্তির পরপরই সর্বত্র প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিনেমাটির শেষ দৃশ্য অর্থাৎ ক্লাইম্যাক্স।
সিনেমাটি দেখার পর দর্শকের অনেকেই ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, বাংলা কনটেন্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সেরা ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য এটি। প্রীতম-ফারিণের অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতার মুনশিয়ানার কথাও বলছেন সাধারণ দর্শকেরা।
নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত লিখেন, অভিনন্দন, শিহাব ভাই! ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ দেখে খুব উপভোগ করেছি। দূরবর্তী সম্পর্কের জটিলতাগুলি এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যেটা আপনার দক্ষতার প্রমাণ দেয় সঙ্গে মানসিকভাবে প্রশান্তি আনে। দুর্দান্ত এক সমাপ্তি দেখেছি এখানে, যা একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। তাসনিয়া ফারিণ এবং প্রীতম হাসান দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন এবং অবশ্যই বলতে চাই, তাদের এক সঙ্গে দেখা একটি ট্রিট ছিল!
একজন লিখেন, দুইজন মানুষ, সম্পূর্ণ চুপ, হয়তো এক রাশ অভিমান, হয়তো চাপা কষ্ট। ৩ মিনিটের একটা ডায়লগ বিহীন দৃশ্য দিয়ে দর্শকের মন কেড়ে নেয়া। স্বপ্নজালের পর হয়তো ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ মনে দাগ কেটে থাকবে অনেকের। অসাধারণ মেকিং, অসাধারণ চিত্রায়ণ, সবকিছুই অসাধারণ!!
আরেকজন লিখেন, আমার দেখা এই অবধি শিহাব শাহীনের সবচেয়ে ভালো কাজ। আর তার পুরো কৃতিত্ব এই দুইজনের। এতো ভালো অভিনয় আর অভিব্যক্তি! আমি জাস্ট উড়ে গেছি। তাসনিয়া ফারিণ ভালো জানি কিন্তু প্রীতম কি রে ভাই। কি সুন্দর করে কথা বলে আর তাকায়। কোথায় ছিলো এই সোনার দেওরা!
দেশ ও দেশের বাইরে থেকে কাজটির জন্য অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান এর নির্মাতা শিহাব শাহীন। তিনি বলেন, ‘অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। দেশ, দেশের বাইরে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে অনেকেরই প্রশংসা পাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক সিনেমাটি দেখার পর নিজের অনুভূতির কথা জানালেন, জানিয়েছেন নিজের ভালো লাগার কথা। কলকাতার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও ঠিক তাই। এরকম আরও অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। বিশিষ্ট ক্রীড়া লেখক উৎপল শুভ্রও গতকাল ফোন করে তার ভালো লাগা শেয়ার করেছেন। আর সাধারন দর্শকের ভালোবাসা তো পাচ্ছিই। তবে সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে প্রশংসা আসছে সেটা হলো শেষ দৃশ্য নিয়ে। গল্পের ক্লাইম্যাক্স-এ সবাই মুগ্ধ। অনেকেই বলছেন, বাংলা কনটেন্টে এখন পর্যন্ত সেরা ক্লাইম্যাক্স ছিল এটা। সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখালখির পাশাপাশি শেষ দৃশ্যের রিল তো ভাইরাল। অসংখ্য রিল চোখে পড়ছে। ভালো লাগছে দর্শকের এমন সাড়া পেয়ে।’
জাহান সুলতানার গল্পে সিনেমাটিতে প্রীতম-ফারিণ ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন রূপন্তী আকিদ, সমাপ্তি মাশুক, খলিলুর রহমান কাদেরী, শিরিন আলম, শুভজিৎ ভৌমিক, ও শাহীন শাহনেওয়াজ প্রমুখ।
