বিরোধীদলীয় উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, সরকারের চেয়ে কীভাবে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়? আমাদের দেশের বিভিন্ন সংস্থা আছে, তথ্য আছে, তাহলে কীভাবে সরকারের চেয়ে এরা বড় শক্তিশালী হয়? তিনি বলেন, আমি বলতে পারি, যদি সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে দমন করা না হয়, তাহলে এরা রমজানে পণ্যের দাম বাড়াবে।
গতকাল মঙ্গলবার ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা এমন প্রশ্ন করেন। এর আগে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, স্থানীয় পণ্যের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে। তবে সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগামীতে নিশ্চয়ই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এ সংসদে আগের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সিন্ডিকেটে হাত দেওয়া যাবে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কিন্তু দৃশ্যমান কিছু দেখছি না। সিন্ডিকেট এত শক্তিশালী হয়ে গেছে যে, তারা প্রতিদিন সকালে মোবাইলের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে দেয়। এরা সকালে এসএমএসের মাধ্যমে চিনি, ডিম, মাংস, তেল এমনকি তাজা শাকসবজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা জানার পরও কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কোনো অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে, কিছু দেখিনি।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, এনবিআর থেকে ট্যাক্স কমানো হয়েছে। আশা ছিল জিনিসপত্রের দাম কমবে। চিনির জন্য সরকারি সংস্থা আছে। একদিন সংস্থাটি হঠাৎ করে দাম চিনির বাড়িয়ে দিল ২৫ টাকা। পরে অবশ্য সন্ধ্যায় তা স্থগিত করে। কিন্তু এ সুবিধা নিল চিনির সিন্ডিকেট। দাম বাড়িয়ে দিল ১৬০ টাকা কেজি। অথচ পাশের (ভারত) দেশে চিনির দাম কম। সেখানে মাত্র ৭০ টাকা। আর দেশে ১৬০ টাকা হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, আমি গ্রামে যাই, রাস্তায় যাই, কোথায় দেখি না দাম কমে। এর কারণ হচ্ছে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট নিয়ে রিপোর্ট হচ্ছে। শনাক্ত করা হয়েছে। দাম কমানো নিয়ে বা তদারকির জন্য একটি অধিদপ্তর রয়েছে। সেই অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সামনে একজন অন্যজনকে পেটাচ্ছে, কেন তারা কম দামে বিক্রি করছেন, তাদের মারধর করা হচ্ছে। সরকারের যারা রয়েছে, তাদের কাছে অনুরোধ, ব্যবস্থা নিন।
এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাব প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় আনার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে সরকার প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বড় একটি অংশ দেশে উৎপাদিত হয়ে থাকে। সাধারণত ভোজ্য তেল, চিনি ও মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পর্কিত। স্থানীয় পণ্যের মূল্য কিছুটা বাড়লেও জনসাধারণের কেনার ক্ষমতাও বাড়ছে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পংকজ নাথের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে আবশ্যকীয় দ্রব্যাদির মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাজার মনিটারিং জোরদার করা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল ১৫ হাজার ৪৮৮ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের সঙ্গে ৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৮১ মিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের সঙ্গে ৪৬৬ দশমিক ৩৩, মিয়ানমারের সঙ্গে ঘাটতি ১১৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার, ভুটানের সঙ্গে ঘাটতি ১৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
