বরখাস্ত ডিআইজি মিজানের সাজা বহাল

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০২ এএম

নানা নেতিবাচক কর্মকান্ডে সমালোচিত পুলিশের বরখাস্তকৃত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মিজানুর রহমানের ১৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের পৃথক ধারার এ মামলায় বিচারিক আদালত তাকে সাজা দিয়েছিল।

একই মামলায় মিজানের ভাই মাহবুবুর রহমান, ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান ও মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাত বছর কারাদন্ড বহাল রয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল খারিজ করে গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

গত বছর ২১ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এক রায়ে মিজানকে সম্পদের তথ্য গোপনের একটি ধারায় তিন বছর, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ছয় এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি ধারায় পাঁচ বছর করে মোট ১৪ বছরের কারাদন্ড দেয়। তবে সব সাজা একত্রে চলবে বলে তাকে ছয় বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়। অন্যদিকে বাকি তিন আসামিকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের একটি ধারায় তিন বছর ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি ধারায় চার বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। মিজানের স্ত্রী রত্না এখনো পলাতক। বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন কারাগারে থাকা মিজান ও অন্য আসামিরা। এর ধারাবাহিকতায় আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে এ রায় হলো।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিচারিক আদালতের রায়টি বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। অর্থাৎ পৃথক ধারায় ১৪ বছর হলেও তাকে (মিজান) ছয় বছর সাজা ভোগ করতে হবে। আসামিপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’ অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তি হয়ে আসামির সাজা বহাল রয়েছে। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’

৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৪ জুন মিজান তার স্ত্রী রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই (উপপরিদর্শক) মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। একই সঙ্গে মিজানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা (বর্তমানে বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছির (ঘুষ নেওয়ার মামলায় তিন বছর ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পাঁচ বছর দন্ডিত) মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও বক্তব্য দেন মিজান। নানা বিতর্কের মধ্যে ২০১৯ সালের ২৫ জুন পুলিশের ডিআইজির পদ থেকে মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘুষ লেনদেনের মামলায় মিজানকে ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিন বছরের সাজা দেয় ঢাকার একটি আদালত। তবে ওই মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয় আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত