ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

কারওয়ান বাজারের র‌্যাম্প চালু হলে যানজটের শঙ্কা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ০২:২১ পিএম

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালু হচ্ছে কারওয়ান বাজার অংশের র‌্যাম্প। আগামী সপ্তাহে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এই অংশের র‍্যাম্প চালু হলে বিমানবন্দর থেকে আসা গাড়িগুলো সরাসরি নামতে পারবে এফডিসির গেটের সামনের সড়কে। এতে এই এলাকায় যানজট বাড়ার শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন করে যখন এই রোডে গাড়ি নামবে তখন সড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে। এমনিতেই এই রোডে সব সময় যানজট লেগে থাকে। তাই র‌্যাম্প চালু হলে যানজট বাড়ার শঙ্কা আছে—এমনটাই জানিয়েছেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান।

তবে র‍্যাম্প চালু হলে যানজট যাতে না বাড়ে সে ব্যাপারে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সূত্র জানায়, গত বছরে সেপ্টেম্বরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। পরবর্তীতে তা মগবাজার হয়ে কুতুবখালী গিয়ে শেষ হবে। তবে এর আগে কাওরান বাজার অংশের র‌্যাম্প চালু হওয়ার কথা আগামী সপ্তাহে।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাওরান বাজার অংশে র‌্যাম্প চালু করতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো রাস্তায় তীব্র যানজট দেখা যায়। তবে এই রোডে পথচারীদের সেভাবে হাঁটার ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পরতে হচ্ছে এই রোড দিয়ে চলা পথচারীদের।

ইদ্রীস মিয়া নামে এই এলাকার একজন ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই রোডে তো এখনই অনেক যানজট। তার মধ্যে যদি এই র‌্যাম্প চালু হয় তাহলে সামনে আরো ভয়ানক যানজটে পড়তে হবে। চার রাস্তার মোড়ের সামনে না নামিয়ে আরও আগে নামালে ভালো হতো।’

গাজীপুর পরিবহনের চালক সহকারী মো. হেদায়েত। এই সড়কে নিয়মিত গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন তিনি। হেদায়েত বলেন, ‘গুলিস্তান থেকে আসার পথে মগবাজার পার হয়ে হাতিরঝিল মোড় দিয়ে যেতে ৪০ মিনিটের মতো লেগে যায়। এখন এই অংশেও যদি র‌্যাম্প চালু হয় তাহলে হয়তো বেশি সময় লাগবে।’

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এমএস আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই কাওরান বাজার অংশের র‌্যাম্প চালু হবে। এই র‌্যাম্প চালু করার প্রস্তুতি শেষ। র‍্যাম্প চালু হলে যাতে ওই সড়কে যানজট না হয় সে বিষয়ে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আমাদের পরিকল্পনা চলছে। এই পুরো প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণ করিডরের সড়কপথের ধারণক্ষমতা আরও বাড়বে।’

অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই র‌্যাম্প চালু হলে যানজট বাড়ার শঙ্কা আছে। তবে যানজট কমাতে হলে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টকে আরো বেশি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। র‌্যাম্পের সামনে মিটিারিং র‌্যাম্প চালু করতে হবে। সেকেলে পদ্ধতিতে যানজট নিরসনের চেষ্টা করা হলে হাতিরঝিল এলাকায় তা সম্ভব হবে না।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (৫১ শতাংশ) এবং চীনা প্রতিষ্ঠান শেনডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ (৩৪ শতাংশ) ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের (১৫ শতাংশ) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পের মোট ব্যয় আট হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যার ২৭ শতাংশ সরকার ভিজিএফ হিসেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে দেবে। প্রকল্পের মূল দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার, র‌্যাম্পসহ এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত