অর্থ আত্মসাতের মামলায় আত্মসমর্পণ করবেন ড. ইউনূস

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৮ এএম

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় আগামী রবিবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন ড. ইউনূস। একই সঙ্গে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় একই দিন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রবিবার সকালে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে তিনি (ড. ইউনূস) হাজিরা দেবেন। এ মামলায় তিনি জামিনে আছেন। এ ছাড়া দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ওইদিন এ মামলায় হাজিরার তারিখ রয়েছে। এ মামলায় ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।

গত ১ জানুয়ারি শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে কারাদন্ড ও অর্থদন্ডাদেশ দেয় ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। পরে ২৮ জানুয়ারি এ রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করে ওইদিন জামিন নেন তিনি। অন্যদিকে দুদকের মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ৩০ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

৫৪ কোটি টাকা জমা দিয়ে মামলা করতে হবে : ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে আয়করের ২৫ শতাংশ হারে ৫৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা মওকুফ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ২৪ পৃষ্ঠা রায়ের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই টাকা জমা দিয়ে এনবিআরের দাবি করা আয়কর নিয়ে হাইকোর্টে ইনকাম ট্যাক্স রেফারেন্স (আয়কর রেফারেন্স) মামলা করতে হবে ড. ইউনূসকে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের ২১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি আয়কর দাবি করে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টকে নোটিস দেয় এনবিআর। ওই নোটিসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকম প্রথমে কমিশনার অব ট্যাক্সেসে আপিল করলে সেটি খারিজ হয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্যাক্সেস অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আপিল করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। এরপর এ নিয়ে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে গ্রামীণ টেলিকম। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সেই রুল খারিজ করে এ রায় হয়। এতে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকমের আরজি খারিজে এনবিআরের সিদ্ধান্ত সঠিক। আয়করের টাকা জমা দিয়ে রেফারেন্স মামলা ফাইল করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাহমিনা পলি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রামীণ টেলিকমকে ৫৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা দিয়ে আয়কর রেফারেন্স মামলা করতে হবে।’

রেফারেন্স মামলা বা হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রায়টি এখনো দেখিনি। এখনো কোনো নির্দেশনা (গ্রামীণ টেলিকম থেকে) পাইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত