কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে ফরচুন বরিশাল। টানা চারবার ফাইনালে ওঠা কুমিল্লা দেখছিল পঞ্চম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। তাদের স্বপ্নকে অধরাই রেখে দিল তামিম ইকবালের দল। কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিপিএলের দশম আসরের শিরোপা জিতল ফরচুন বরিশাল।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ যখন শুরু হয়, তত দিনে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহরা তারকা বনে গেছেন। আইকন খেলোয়াড় হিসেবে নিলামে নাম থেকেছে, অধিনায়কত্বও করেছেন। কিন্তু কখনোই শিরোপা জিততে পারেননি। দশম আসরে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচল তাদের। বরিশালের প্রথম শিরোপা যে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরও। আর তামিমের দ্বিতীয়, তবে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম। অনেকেই বরিশাল দলটাকে বলছিল ‘বুড়োদের দল’।
নেতৃত্বে থাকা তামিম ইকবাল কয়েক মাস ধরে যে পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে গেছেন, সেটা আর কারও পক্ষে বোঝার সাধ্য নেই। বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়া, প্রকাশ্য সাক্ষাৎকারে সাবেক সতীর্থের এমন বিষোদগার...নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েই তামিম হাঁটছিলেন সমাপ্তিরেখার পথে। তামিম ৪৯২ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে পথ দেখিয়েছেন। মুশফিক আসর জুড়ে করা ৩৮০ রানে দিয়েছেন যোগ্য সঙ্গ । মাহমুদউল্লাহ শেষ দিকে খেলেছেন কার্যকরী কিছু ইনিংস। তার ২৩৭ রানের গুরুত্বটা স্রেফ সংখ্যায় বোঝা যাবে না।
তামিম, মুশফিক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেন না অনেক দিন ধরেই। দুজনই এই সংস্করণ থেকে নিয়েছেন অবসর। তামিম তো সেই ২০২০ সালেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে না বলে দিয়েছিলেন, মুশফিক ২০২১ সালে। বাংলাদেশে বিপিএলের বাইরে অন্য কোনো টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাও নেই, যেখানে এই সংস্করণে নিজেদের ব্যস্ত রাখবেন। দুজনই তাই ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলতে নেমেছিলেন ১ বছর পর, বিপিএলের গত মৌসুমের পর। বঞ্চনার ক্ষোভ, দেখিয়ে দেওয়ার জেদ আর মিরপুরের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা; এসবের কাছেই হার মানল তারুণ্যের জোয়ার আর টাকার ঝনঝনানি। অতীতে বেশিরভাগ মৌসুমেই দেখা গেছে, আসরের শেষ দিকে একঝাঁক বিদেশি খেলোয়াড় এসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন। যে পার্থক্যটা আর ঘোচানো সম্ভব হয়নি। এবার বরিশালের ঘরের শক্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে কাইল মায়ার্সের সামর্থ্যও। এই দুইয়ের যোগফলেই অবশেষে ‘ফরচুন’ ধরা দিল বরিশালের।