কুসিক উপনির্বাচন

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেই নির্বাচনের আমেজ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৯ এএম

কুমিল্লা সিটি করপোরশনের (কুসিক) উপনির্বাচন ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আর মাত্র বাকি ৫ দিন। কেবল মেয়র পদে উপনির্বাচন হওয়ায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেই নির্বাচনের আমেজ। এবার উপনির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। যাদের জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন কাউন্সিলররা। এ কারণে নির্বাচনী আমেজ প্রকাশ্য নয়। হিসাব-নিকাশ চলছে গোপনে।

স্থানীয়দের মতে, কাউন্সিলরদের সঙ্গেই রয়েছে ভোটারদের সরাসরি যোগাযোগ। ভোটাররা কাউন্সিলরদেরই কাছে পান বেশি। কাউন্সিলররা আগে নির্বাচিত হওয়ায় তারাই মেয়র প্রার্থী বেছে নিতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছেন। ভোটে ২৭টি ওয়ার্ডের ২৭ জন কাউন্সিলর এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলররা যার সঙ্গে থাকবেন তিনিই মেয়র হবেন। প্রার্থীরা তাদের নিয়েই প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে বাজিমাত করতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার তাহসিন বাহার সূচনা। কারণ ২৭ জন কাউন্সিলর ও ৯ জন সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরসহ ৩৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩৪ জন রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের বাস প্রতীকের প্রার্থী তার সঙ্গে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাস প্রতীকের প্রচারণাসহ সব কলাকৌশলে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলররা কাজ করছেন। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার পর ঘটা করে ওয়ার্ডগুলোতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি করা হয়। সঙ্গে গঠন করা হয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও যুব মহিলা লীগের কমিটি, কাউন্সিলরদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করছে শাখা কমিটিগুলো। ফলে সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে সূচনা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে অনেকের ধারণা।

তবে অন্য তিন প্রার্থীও বসে নেই। চেষ্টা করছেন কাউন্সিলরদের ভোট ভাগাভাগি করে নিতে, নির্বাচনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু হয়তোবা কাউন্সিলরদের নিজের কাছে রাখতে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তা খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। কুসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সাক্কুর অনুসারী বিএনপি করা দুজন কাউন্সিলর ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে আরফানুল হক রিফাতের সঙ্গে পরাজিত হয়ে মনোবল পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত সাক্কুর মাথার ওপর রয়েছে দলের বহিষ্কারাদেশ ও নিজ দলের প্রার্থী তরুণ কায়সারের শক্ত প্রতিরোধ। সব মিলিয়ে সাবেক দুইবারের মেয়র সাক্কু ভোটের মাঠে টিকে থেকে কতটুকু এগোতে পারবেন, তা দেখা যাবে ভোট গণনার পরই।

এদিকে সাক্কু প্রতিরোধে প্রার্থী হওয়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নিজাম উদ্দিন কায়সারও এবার যে তেমন সুবিধা করতে পারবেন না, সেটি বিএনপির কর্মীরাই বলছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তিনি (কায়সার) এসেছেন সাক্কুকে ঠেকাতে, সেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনটি জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়ায় এর প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন, সাক্কু প্রতিরোধী হওয়ায় দ্বিতীয়বার সুবিধাজনক অবস্থায় নেই কায়সার। কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী ঘরানার আরেক প্রার্থী নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম। সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ২০১২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন তিনি। প্রতিবারই দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছেন। নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তানিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত