পৃথিবীর কার্বন নির্গমন কমাবে মাটির নিচের হাইড্রোজেন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:১৪ এএম

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস হিসেবে এবার মাটির নিচে প্রাকৃতিক হাইড্রোজেনের ভাণ্ডার কাজে লাগানোর উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক হাইড্রোজেন আমাদের গ্রহের কার্বন নির্গমন নাটকীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে পারে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে ইউরোপ ও আমেরিকার কিছু উদ্যোক্তা। তেমনই একজন জার্মানির ভূ-তত্ত্ববিদ ও স্টার্টআপ উদ্যোগপতি এরিক গোশের। তার ভাষ্য, মাটির গভীরে এখনো অনেক কিছু অজানা থেকে গেছে। বিশেষ করে টেকটনিক ফল্ট এলাকা; যাকো ‘কিচেন’ বলা হয় সেখানকার অনেক কিছুই অজানা রয়েছে। সেখানেই হাইড্রোজেন সৃষ্টি হচ্ছে। সেটা উত্তোলন করা গেলে সংকট মিটবে জ্বালানির। 

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে এরিক গোশের বলেন, ‘পৃথিবীতে এখনো ভালোভাবে অনুসন্ধান চালানো হয়নি। মাটির গভীরে এখনো অনেক কিছু অজানা থেকে গেছে। মানুষ নিজেকে সবজান্তা মনে করলেও বাস্তবে সেটা ঠিক নয়। গ্রহের একটা বড় অংশে কোনো অন্বেষণ হয়নি। ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমে পিরেনিস পর্বতমালায় এমন এক উৎস রয়েছে।

ডয়েচে ভেলে জানাচ্ছে, এখনো পর্যন্ত মাত্র একটি এমন হাইড্রোজেনের উৎস কাজে লাগানো হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার এক গ্রামের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে একটি জেনারেটর হাইড্রোজেন শক্তিতে চলছে। লাইবনিৎস ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. রুডলফো ক্রিস্টিয়ানসেন বলেন, ‘মালিতে মাটির অগভীরে বিশাল পরিমাণে হাই কনসেন্ট্রেশন হাইড্রোজেন পাওয়া গেছে। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মিটার নিচেই সেই ভাণ্ডার রয়েছে। অন্যান্য দেশেও সেই প্রক্রিয়া নকল করে হাইড্রোজেন ব্যবহার করে ইলেকট্রিক গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

ড. ক্রিস্টিয়ানসেন বলেন, ‘হাইড্রোজেন বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এলে এমন কাঠামো সৃষ্টি করে। স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যে আমরা এমন কাঠামো চিহ্নিত করতে পারি। জানতে পারি, মাটির নিচে ঠিক কোথায় হাইড্রোজেন সৃষ্টি হচ্ছে বা অতীতে ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কিছু স্টার্টআপ কোম্পানি হাইড্রোজেনের সন্ধানে ড্রিলিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে। মোটা মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা সেই কাজে কোটি কোটি ডলার ঢালছেন। উদ্যোগপতি ভিয়াচেস্ল্যাভ জগোনিক বলেন, মাটির নিচ থেকে হাইড্রোজেন যে উত্তোলন করা যায়, সেটা হাতেনাতে দেখানোই ছিল ড্রিলিংয়ের মূল কারণ। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী ও অন্যরা আমাকে বলেছেন যে এত সহজে এমন সাফল্য তাদের অভাবনীয় মনে হচ্ছে। সেটা যে আদৌ সম্ভব, তা সবার আগে দেখিয়ে দিতে বলেছেন তারা। কেউ বিশাল ভাণ্ডার আবিষ্কার করে মোটা অঙ্কের অর্থ লাভ করতে পারেন। বিষয়টা অনেকটা পেট্রোলিয়াম যুগের সূচনার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু এর আগে কেউ কখনো সেই চেষ্টা না করায় হাইড্রোজেনের জন্য ড্রিলিং বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত