পারিজার জরিপ

নীরব এলাকায় শব্দের মাত্রা আড়াইগুণ বেশি

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০২:৫৬ এএম

সচিবালয় এলাকাকে ২০১৭ সালে ‘নীরব’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই এলাকায় হর্ন বাজানো নিষেধ থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো এ এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা আড়াইগুণ বেড়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) পরিচালিত এক জরিপে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুস সোবহান প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি স্থানে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে। তাতে দেখা গেছে, নীরব এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা ৮৪.৫ থেকে ১০১.৭ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন ৯৬.৪ থেকে ১০১.৫ ডেসিবল।

আবাসিক এলাকায় দিবাকালীন ৮২.০ থেকে ৯১.০ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন ৮৩.০ থেকে ৯১.৬ ডেসিবল। মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন ৯১.০ থেকে ১০১.৫ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন ৮৯.০ থেকে ১০৩.৮ ডেসিবল।

একই অবস্থা বাণিজ্যিক এলাকায়। এসব জায়গায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা ৯২.০ থেকে ৯৭.০ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন ৯১.০ থেকে ৯৯.০ ডেসিবল। এ ছাড়া বাসের ভেতর ৮০.৪ থেকে ৮৩.৯ ডেসিবল পাওয়া গেছে। বাংলা মোটরে শব্দের মাত্রা ১০৩.৮ ডেসিবল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা ৮৬.০০ থেকে ৯৪.০০ ডেসিবল। সচিবালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা ৯৬.০০ থেকে ১০১.৭ ডেসিবল।

তিনি আরও জানান, নীরব এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা মানমাত্রার চেয়ে দুই গুণের বেশি এবং রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা মানমাত্রার চেয়ে আড়াই গুণের বেশি। আবাসিক এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা মানমাত্রার চেয়ে দেড় গুণের বেশি। আবাসিক এলাকায় রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা মানমাত্রার চেয়ে দুই গুণের বেশি। মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা মানমাত্রার চেয়ে দেড় গুণের বেশি। বাণিজ্যিক এলাকায় দিবাকালীন ও রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা মানমাত্রার চেয়ে দেড় গুণ বেশি। নীরব এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি সচিবালয় এলাকায়, যা ১০১.৭ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ধানমন্ডি ল্যাবএইড, যা ১০১.৫ ডেসিবল। মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বাংলা মোটর, যা ১০৩.৮ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি লালবাগ সেকশন, যা ১০১.৫ ডেসিবল।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘শব্দদূষণের ফলে মানুষ শুধু শ্রবণশক্তি হারায় না, নানা ধরনের জটিল রোগেও আক্রান্ত হয়। আমাদের সবার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অতিদ্রুত সরকারকে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত