ডিসি সম্মেলন

দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে মনিটরিং করার নির্দেশ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৪:০৭ এএম

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি মাসে, প্রয়োজন হলে প্রতি সপ্তাহেই জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন প্রতি মাসে এবং প্রয়োজন হলে প্রতি সপ্তাহেই বাজার মনিটরিং করেন। যাতে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ডিসিরা তেমন কোনো কথা বলেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা কিছু ছোট ছোট পয়েন্ট, যেমন মাদকদ্রব্য নিয়ে কথা বলেছেন। জেলখানায় কয়েদিদের আরও একটু ভালো রাখার কথা বলেছেন। অচল বন্দিদের কীভাবে আরও একটু ছাড় দেওয়া যায় এবং ভার্চুয়াল কোর্ট যেটা কভিডের সময় চালু করেছিলাম। সেটা বাংলাদেশের সব জায়গায় চালু করা যায় কি না।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যেসব কয়েদিকে আনা-নেওয়া রিস্ক (ঝুঁকিপূর্ণ), তাদের ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচার করা যায় কি না, সেটা নিয়ে বলেছেন তারা। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সারা দেশে এ ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটা দেখব বলে জানিয়েছি।’

মামলাজট কমাতে সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী : মামলাজট কমাতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মন্ত্রী এই সহযোগিতা চান।

মোবাইল কোর্টের মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের মামলার বিষয়টি আমি নিজেই তুলেছিলাম এবং বলেছি, আমরা একটা তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়ে সুষ্ঠু নিষ্পত্তি চাই।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিরা কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন এবং আমাদের আইন সচিব সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যেসব মাল জব্দ করা হয়, সেসব মাল নিষ্পত্তির বিষয়ে কী করা উচিত এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে কিছু প্রস্তাব এসেছে। আমরা ই-জুডিশিয়ারির কথা বলেছি। সেখানে কতটুকু সুবিধা হবে, সে কথা বলেছি।’

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অনুরোধ পরিবেশমন্ত্রীর : দেশের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। জেলাগুলোয় চলমান ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে দেশের পরিবেশ ও সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয় না ঘটে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তৃতীয় দিনের ডিসি সম্মেলনে যোগদান শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলমহাল ও জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাহাড়-টিলা সংরক্ষণ ও পাহাড়ের ঢাল এবং পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে বন্ধ ইটভাটাগুলো যেন কোনোভাবেই পুনরায় চালু করতে না পারে এর ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি কাজে শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পকারখানায় ইটিপি চালু রাখতে জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ, নির্মাণসামগ্রী, ইটভাটা, বর্জ্য ইত্যাদির মাধ্যমে বায়ুদূষণ রোধে জেলাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার জন্য বলা হয়েছে। প্লাস্টিকের দূষণ রোধ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধে ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের।

গুজব প্রতিরোধে চার কৌশল তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর : সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের চারটি কৌশল অনুসরণের কথা বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তৃতীয় দিনের অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ করা, যখন পরীক্ষা হয়, তখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া না-হওয়া অথবা ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে যখন সাইবার বুলিং ও সাইবার ক্রাইম হয়, সে বিষয়ে তাদের উদ্যোগ কী হতে পারে, সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। তারা কী ধরনের সহযোগিতা পেতে পারেন, সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রথমত, ডিজিটাল ও এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) লিটারেসি সচেতনতা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, যেসব আইন রয়েছে, সেগুলোর শক্ত প্রয়োগ করা। চতুর্থ, পুলিশ প্রশাসন যাতে একাডেমিয়া, মিডিয়া এবং প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা। এই চারটি কৌশল আমরা বলেছি, সাইবার সিকিউরিটি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব প্রতিরোধের জন্য।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের আরেকটি চাহিদা ছিল, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সেল স্থাপন করা। সেটা আমরা বিটিসিএল এবং ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম থেকে বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে আইসিটি সেল স্থাপনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত