বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) মোটরযান নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ইস্যু, রুট পারমিট ও নবায়নে ঘুষসহ অন্যান্য সেবায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর, অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। তিনি বলেন, বিআরটিএ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছে। কারণ এতে বিআরটিএসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমাননির্ভর তথ্য যা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টিসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এরূপ প্রতিবেদন প্রকাশে বিরত থাকার জন্য তাদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। আমরা টিআইবির কাছে এর লিখিত ব্যাখ্যা চাইব। পাশাপাশি টিআইবি যে গঠনমূলক-বাস্তবধর্মী সুপারিশগুলো করেছে, তা আমলে নেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার বনানীতে বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিআরটিএ।
বিআরটিএকে শতভাগ ঘুষমুক্ত প্রতিষ্ঠান বলা যায় কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, আপনি যেভাবে বলছেন এখানে ১০০ পার্সেন্টের বিষয় নয়। তারাই (টিআইবি) তো বলেছে ৪৬ শতাংশ। ঘুষ লেনদেন হয় না, এটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। যদি হয়ে থাকে, সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তো আছে। পৃথিবীর সব দেশে যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আছে।
তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনে চাঁদাবাজির কথাও বলা হয়েছে। এটা তাদের একটা গোঁজামিল রিপোর্ট। সবকিছু মিলে তারা ৯০০ কোটি টাকার হিসাব দিয়েছে। এই ৯০০ কোটি টাকার হিসাব তারা কোথায় পেল? এখানে তথ্য-প্রমাণটা কী? সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ তারা তো আমাদের কাছেও আসতে পারত। তারা এলে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নিতাম। এখানে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা দুর্নীতিকে কখনো প্রশ্রয় দিই না, দেব না। আমরা চাই হয়রানিমুক্ত কাজ হোক।
বিআরটিএ অনলাইন বিভিন্ন সেবার কথা তুলে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী পরীক্ষার দিনই বায়োমেট্রিক দিয়ে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে অনলাইনে প্রযোজ্য ফি জমা প্রদানপূর্বক আবেদন দাখিল করে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ওইদিনই পেয়ে যাচ্ছে, যা ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে পারছে। এ ছাড়া অনলাইনে আবেদন দাখিলের ৭-১৫ দিনের মধ্যে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাকযোগে আবেদনকারীর ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু সেবা পেতে সশরীরে বিআরটিএতে আসার প্রয়োজন হয় না, সেহেতু উল্লিখিত সেবা পেতে ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত নয়।
নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সেবা পেতে ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সেবা পেতে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লিখিত গড় সময় ৩০ কর্মদিবসের বিষয়টি অসত্য-কল্পনাপ্রসূত। ১৫ অক্টোবর ২০২০ থেকে ফিটনেস নবায়নে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে মোটরযান সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে হাজির করে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উপযুক্ততা সাপেক্ষে ফিটনেস সার্টিফিকেট একই দিনে প্রদান করা হয়। ফিটনেস নবায়নে মোটরযান ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টারের (ভিআইসি) মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের লক্ষ্যে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল, মিরপুর অফিসে ১২ লেনবিশিষ্ট ভিআইসি চালু করা হয়েছে। অন্যান্য সার্কেল অফিসে ফিটনেস প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট মোটরযানের সচিত্র ছবি ধারণ করে ডিজিটালি আর্কাইভ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ফিটনেস নবায়নে ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যেহেতু স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সেহেতু সংশ্লিষ্ট সেবা পেতে ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
