বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের পর রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হচ্ছে একের পর এক রেস্তোরাঁ। ছোট ছোট রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও বেশিরভাগ বড় রেস্তোরাঁগুলোই এখন বন্ধ। এতে খাবার খেতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ভোজন রসিকরা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁয় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এর মধ্যে শুধু পুলিশই ১ হাজার ১৩২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। সেইসঙ্গে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের অভিযানে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যায়। আবার অভিযানের আতঙ্কে অনেক মালিকই তাদের রেস্তোরাঁ বন্ধে রাখছেন। নবাবী ভোজ, সুলতান ডাইন, সিরাজ চুই ঝাল, কড়াই গোস্তসহ নাম করা বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁর বিভিন্ন শাখা বন্ধ রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁর সামনে ঝোলানো নোটিসে লেখা আছে ‘রেনোভেশন কাজের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।’ এতে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ভোজন রসিকদের, অন্যদিকে মালিক-শ্রমিকরাও দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, খিলগাঁও, শাহবাগ, ধানমন্ডী, গুলশানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ রেস্তোরাঁই বন্ধ। আগে থেকে না জানায় এসব রেস্তোরাঁগুলোতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে ভোজন রসিকদের। পল্টন এলাকায় দুপুরে কড়াই গোস্ত রেস্তোরায় এসেছিলেন মো. নাইম নামের এক ব্যক্তি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, পল্টন এলাকায় ভালো মানের বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ বন্ধ পেলাম। এক ঘণ্টার মতো সময় গেল শুধু ভালো রেস্তোরাঁ খুঁজতে। তাই ভাবলাম এখানে এসে দোকান খোলা পাবো। কিন্তু, এসে দেখি তালা ঝুলানো আছে। দুপুরে খাওয়ার জন্য এতো সমস্যায় পড়তে হবে তা আগে ভাবিনি।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মো. আকাশ। তিনি বলেন, বুধবার রাত ১০টার পর গুলশান ও বনানীতে গেলাম রাতের খাবার খেতে। কিন্তু অভিযানের জন্য বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ বন্ধ। এক ঘণ্টার মতো বেশি সময় ধরে এতো ঘুরলাম খাওয়ার জন্য কিন্তু কোনো রেস্তোরাঁই খোলা পেলাম না। অথচ অন্যান্য সময় রাতে ঠিকই রেস্তোরাঁগুলো খোলা থাকত।
ধানমন্ডীতে সম্প্রতি বন্ধ হওয়া গাউসিয়া টুইন পিক টাওয়ারের একটি রেস্টুরেন্টের শ্রমিক মো. জামান বলেন, আর কিছুদিন পর রমজান মাস আসছে। তারপর আবার ঈদ। সারাবছর আমরা হোটেলের শ্রমিকরা ঈদের আসা করি। কারণ ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক বেচাকেনা হয়। আর ঠিক এই সময়ে আমরা বেকার হয়ে আছি। প্রতিষ্ঠানের মালিক যদিও দোকান খোলা না রাখতে পারে তাহলে আমাদের কিভাবে চালাবে?
পল্টন এলাকায় যত্নের খাবার ঘর হোটেলের আরেক শ্রমিক নুরুজ্জামান বলেন, আমাদের দোকান খোলা আছে। তবে কাল যে বন্ধ হবে না, সেটি বলতে পারছি না। এইভাবে একের পর এক দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে শ্রমিকরা। সেই সাথে আমাদের অনেক শ্রমিক ভাইদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টে এমন ঘটনায় শ্রমিকদের কি দোষ? বলে আক্ষেপ করেন এই শ্রমিক।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় ভোজন রসিকদের অনেক সমস্যা হচ্ছে সেটি আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু হুটহাট অভিযানে একের পর এক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরাও বিপাকে আছি। সেই সাথে আমাদের শ্রমিকদের কোন দোষ না থাকলেও তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এক হাজারের বেশি কর্মচারী হবে গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন মানুষকে সেবা দিবো নাকি এসব সমস্যা সমাধান করব। আদালতের বারান্দায় আমাদের দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী সব সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
