যুক্তরাষ্ট্র লিগের ম্যাচে মন্ট্রিলের বিপক্ষে লিওনেল মেসির খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। সেটিই হলো। পুরো ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখেছেন মেসি। লুইস সুয়ারেজ ও সার্জিও বুসকেটস নামেন বদলি হিসেবে। ঘরের মাঠ চেস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ২-৩ গোলে হেরে গেছে। এমএলএসে এই মৌসুমে প্রথম হার ডেভিড ব্যাকহ্যামের মালিকানাধীন ক্লাবটির।
ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও যেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মেসির না খেলার বিষয়টি। কী কারণে মেসি খেলেননি তা ম্যাচ শেষে জানতে চাওয়া হয়েছিল মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনোর কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ আগেই এ নিয়ে কথা বলেছিলাম। তখনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল এই ম্যাচে মেসি বিশ্রামে থাকবেন, ন্যাশভিল ম্যাচে (প্রথম লেগ) যাই ঘটুক। আমাদের এও নিশ্চিত করতে হবে মৌসুম জুড়ে যেন খেলোয়াড়রা ফিট থাকে।’ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর প্রথম লেগ ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ঘরের মাঠে ১৩ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে মায়ামি। সেই গোল ৭১ মিনিটে শোধ করেছিলেন লুইস কাম্পানা। এর আগে পরে মাঠে নামেন বুসকেটস আর সুয়ারেজ। ৭৫ ও ৭৮ মিনিটে দুটি গোল করে কানাডীয় ক্লাব মন্ট্রিল। ৩-৫-২ পজিশনে কাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা জর্দি আলবা ৮০ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান ২-৩-এ নামিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু এরপর আর গোল হয়নি।
মেসি এমএলএস এর আরও বেশ কিছু ম্যাচ খেলবেন না। মেসির ওপর খেলার চাপ কমাতেই করা হবে এমনটি। এমএলএস একেক দলের ৩৪টি ম্যাচ খেলতে হয়। এর মধ্যে সাধারণত ১৩ ম্যাচ জিতলেই প্লে-অফে উঠে যায় দলগুলো (যেমন গেল মৌসুমে শার্লট ১০ জয়ে প্লে-অফ খেলেছিল)। এই ৩৪ ম্যাচের বাইরেও কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ, লিগস কাপ এবং প্লে-অফে দল উঠলে ২০টি ম্যাচ খেলতে হতে পারে মায়ামিকে। আর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোতেই মেসিকে চাইবে মায়ামি।
এ ছাড়া জাতীয় দলের হয়ে মেসিকে খেলতে হবে কোপা আমেরিকা। সব ম্যাচ হিসেব করলে মৌসুমে মেসির দলের (মায়ামি ও আর্জেন্টিনা) খেলার ম্যাচের যোগফল হতে পারে ৮৩ (যদি অলিম্পিকও খেলেন মেসি)।
তবে মায়ামি ও আর্জেন্টিনার কাছাকাছি সময়ে খেলাও আছে। তখন যেকোনো এক দলের হয়ে খেলবেন মেসি। তাতেও অন্তত ৬৮ ম্যাচ খেলতে হতে পারে মেসির। তাই এমএলএস এর কিছু ম্যাচে মেসিকে বিশ্রাম দেওয়া হবে।
হারের পরও ইস্টার্ন কনফারেন্সে চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে মায়ামি। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মন্ট্রিল। তিন ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট করে আছে আরও তিনটি দলের।
