রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল (সিবিডি) প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গত রবিবার ‘কামরাঙ্গীরচর জন্মভূমি রক্ষা কমিটির’ ব্যানারে কামরাঙ্গীরচর সরকারি কলেজ মাঠে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
কামরাঙ্গীরচরে সিবিডি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
কামরাঙ্গীরচর জন্মভূমি রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ও কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলছি, যদি আমাদের কামরাঙ্গীরচরে সিবিডি বাতিল করা না হয় অবিলম্বে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব। চারশো বছর ধরে আমার বাবা, দাদা, দাদার দাদা সবাই এখানে বসবাস করছে। যদি এখান থেকে আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা প্রতিহত করব। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘ডিএসসিসির সিদ্ধান্ত কামরাঙ্গীরচরবাসীর দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তারা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এখানে তিনটি ১০৪ ফুট সড়ক, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও সিবিডি বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে হাজার বছরের ঐতিহ্য কামরাঙ্গীরচরের জনবসতি হারিয়ে যাবে। এখানে কোনো ঘরবাড়ি থাকবে না। আমাদের এলাকা, আমাদের জন্মভূমি ছাড়তে হবে। সিবিডি প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কামরাঙ্গীরচরের মানুষ বিতাড়িত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মেয়র তাপসের কাছে আমাদের আবেদন, কামরাঙ্গীরচরবাসীকে উচ্ছেদ না করে যেসব জায়গা খালি রয়েছে, সেখানে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।’
কামরাঙ্গীরচর থানার রোড এলাকার বাসিন্দা জুম্মন মিয়া বলেন, ‘উন্নয়নের নামে বিলাসিতা আমরা চাই না। শুনেছি এখানে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র করা হবে। এই সম্মেলন কেন্দ্র আমাদের কী কাজে আসবে? এই উন্নয়ন আমাদের দরকার নেই। উন্নয়নের নামে আমাদের উচ্ছেদ করা হলে সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। আমরা সবাই সম্মিলিত হয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করতে চাই। প্রয়োজনে কামরাঙ্গীরচরের যেখানে খালি জায়গা রয়েছে, সেখানে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।’
কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন ও অধিগ্রহণের বিপক্ষে নই। আমরা উন্নয়ন চাই। যে উন্নয়নে আমরা ভিটেমাটি ছাড়া হব, সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। বর্তমানে কামরাঙ্গীরচরবাসীর মাঝে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমাদের একটাই কথা, কোনো অবস্থাতেই আমাদের বসতভিটায় অন্য কাউকে দখলদারি করতে দেব না।’
কামরাঙ্গীরচর থানা শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও কেমব্রিজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা সুলতানা মাহমুদা বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচরের ২০ লাখ মানুষের একটাই দাবি, আমরা সিবিডি বাস্তবায়ন চাই না। এখানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সিবিডি বাস্তবায়ন হলে এসব কিছুই থাকবে না। আমাদের জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প আমরা চাই না।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস মোল্লা, আলীনগর পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু শেখ, এসএম মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান প্রমুখ।
