হরিপুরের তেলের ৬০ শতাংশ ডিজেল

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০২:৩১ এএম

তিন মাস আগে সিলেটের হরিপুরে আবিষ্কৃত নতুন গ্যাসকূপের (সিলেট-১০) উপরিভাগে তেলের যে সন্ধান পাওয়া গেছে, তার ৬০ শতাংশ ডিজেল। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের নমুনা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে।

নমুনা বিশ্লেষণের ফল সম্প্রতি পেট্রোবাংলার কাছে জমা দিয়েছে ইআরএল। অপরিশোধিত তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপ্যাকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ফল পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খনি থেকে যে জ্বালানি তেল পাওয়া যায় সেটি অপরিশোধিত অবস্থায় থাকে। একে ক্রুড অয়েল বলে। এ তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল, ন্যাপথা, এলপিজি, বিটুমিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি থাকে। রিফাইনারিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসব উপাদান পৃথক করা হয়।

ইআরএলের নমুনা বিশ্লেষণে ডিজেল ছাড়াও অপরিশোধিত ওই জ্বালানি তেলের মধ্যে ২০ শতাংশ ন্যাপথা এবং ২০ শতাংশ অবশিষ্টাংশ রয়েছে।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান বলেন, খনি থেকে প্রাপ্ত নমুনা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণ করে তারা ওইসব জ্বালানির উপস্থিতি পেয়েছেন। এটি প্রতিবেদন আকারে পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয়েছে। অপরিশোধিত ওই জ্বালানি তেল ইআরএলেই পরিশোধন করা যাবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হলে সিলেট-১০ কূপের পাশেই আরও একটি কূপ খনন করা হবে। তবে সেজন্য আরও কিছু সময় লাগবে। কারণ ডিপিপি অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়াও রয়েছে। কূপ খননের সময় তেলের স্তরটি আবার যাচাই করা হবে।

হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপে গত ডিসেম্বরে তিন স্তরে গ্যাস আর এক স্তরে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। উপাদান বিশ্লেষণের জন্য ১০ লিটারের একটি নমুনা ইআরএলে পাঠানো হয়। পরীক্ষামূলকভাবে এতে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে। প্রকৃত মজুদ কত তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। এর আগে ২০১২ সালেও সিলেটের হরিপুর আর কৈলাস টিলায় তেল পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল পেট্রোবাংলা। পরে আর তেল মেলেনি।

গত ১০ ডিসেম্বর তেলপ্রাপ্তির ঘোষণা দিয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘প্রথম দিন ২ ঘণ্টায় ৭০ ব্যারেল তেল উঠেছে। আপাতত কূপ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৃত মজুদ জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২০ বছর এখান থেকে সুফল পাওয়া যাবে। উত্তোলিত তেল পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেটের ১০ নম্বর কূপে ২ হাজার ৫৭৬ মিটার গভীরতায় ৪টি স্তরে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। সবচেয়ে বেশি গভীরতায় চতুর্থ স্তরটিতে (২৫৪০-২৫৫০ মিটার) পরীক্ষা করে ৩২৫০ পিএসআই চাপে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গেছে। সেখানে মজুদের পরিমাণ ৪৩ থেকে ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট। তৃতীয় স্তরে (২৪৬০ থেকে ২৪৭৫ মিটার) আরও একটি ভালো গ্যাসের স্তর পাওয়া গেছে, সেখানে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরেও (২২৯০ থেকে ২৩২০ মিটার) গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রথম স্তরে (১৩৯৭-১৪৪৫ মিটার গভীরতায়) আরও একটি জোন রয়েছে, যেখানে ৮ ডিসেম্বর তেলের উপস্থিতি জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে এই তেলের এপিআই গ্রাভিটি ২৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি। ১৯৮৬ সালে হরিপুরে প্রথম তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। এটি পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ওই সময় এপিআই গ্রাভিটি ছিল ২৭ ডিগ্রি।

জ্বালানি বিভাগ আশা করছে ‘এখান থেকে দিনে ৫০০-৬০০ ব্যারেল তেল পাওয়া সম্ভব। সেখানে ৪৩ দশমিক ৬ থেকে ১০৬ বিলিয়ন ঘন মিটার গ্যাসের মজুদও মিলেছে। ২৫৪০ এবং ২৪৬০ মিটার গভীরতায় একযোগে প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর তেল-গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন করা হলে ১৫ বছরের বেশি সময় গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। বর্তমান বাজারদরে এ তেল-গ্যাসের গড়মূল্য প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত