নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ম লঙ্ঘন করে হত্যা মামলার আসামি ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান নাহিদের জন্মদিন পালন করার অভিযোগ উঠেছে। জন্মদিন পালনকালে মোবাইলে ভিডিও কলে তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেন। এই ঘটনায় নাহিদের নিয়ম লঙ্ঘনের পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে। এমন আয়োজনে মর্মাহত হয়েছেন মামলার বাদীও।
ঘটনাটি গত ৫ মার্চের হলেও বিষয়টি পুলিশ সুপারকে (এসপি) অবহিত করার পর গত রবিবার সবার নজরে আসে। নরসিংদী আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জমান বলেন, ‘ঘটনা গত ৫ মার্চের। নাহিদকে হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে গারদে আনা হয়েছিল। সেদিন আমাদের কিছু পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তার কিছু বন্ধু নিয়ে তিনি কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছেন। আমরা বিষয়টি ইতিমধ্যে অবহিত হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
তিনি বলেন, আইন ভঙ্গ করে গারদের ভেতরে এসব অনিয়ম করা হচ্ছে। আদালত পুলিশের পক্ষ থেকে এসপিকে জানানো হয়েছে। গত দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। দুয়েক দিনের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে অস্ত্রসহ নাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র সরকার। এরপর থেকে একটি হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।
গত বছরের ২৫ মে নরসিংদীর জেলখানা মোড়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান ও আশরাফুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সাদেকুর রহমানের ভাই আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি বলেন, ‘ভাইকে হারিয়ে আমরা মর্মাহত। সেখানে ছাত্রদলের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান নাহিদের নেতৃত্বে ও সরাসরি অংশগ্রহণে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়। আবার সেই হত্যাকারী আদালতের গারদে বসে পুলিশের উপস্থিতিতে আনন্দ-উল্লাস করে জন্মদিন পালন করে, সেটা কতটা কষ্টের তা ভাই হারানো ব্যক্তি ছাড়া কেউ বুঝবেন কি না, আমি জানি না। যারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পবিত্র আদালতে এজলাসের পাশে বসে জন্মদিন পালন করেন এবং যারা সহায়তা করেছেন, তাদের শাস্তির দাবি করছি।’
নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছুটিতে থাকায় আজ আমাদের লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি যে, একজন আসামি হাজিরা দিতে গিয়ে গারদের ভেতরে জন্মদিন পালন করেছেন এবং ভিডিও কলে কথা বলেছেন। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
