জাবিতে দল বেঁধে ধর্ষণ

৪ শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার, দুজনের সনদ বাতিল

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৪ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সম্প্রতি গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও দুই শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কমিটি। গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে গতকাল নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হাসান।

রেজিস্ট্রার আবু হাসান বলেন, সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে ধর্ষণকা-ের মূল আসামি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও তার সাহায্যকারী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুরাদ হোসেনের সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ধর্ণষণকাণ্ডে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি চার শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার জানান, স্থায়ী বহিষ্কৃতরা হলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তফা মনোয়ার সিদ্দিকী সাগর, ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহ পরান, ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. হাসানুজ্জামান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান সাগর।

এ ছাড়া ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামি বহিরাগত মামুনুর রশিদ মামুনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হল ত্যাগ না করলে অ্যাকাডেমিক সনদ স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান রেজিস্ট্রার আবু হাসান।

তিনি বলেন, ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে এমন কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের পর হল ত্যাগ না করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে হলসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, তার পরিচিত বহিরাগত মামুনুর রশীদ মামুনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী ও বহিরাগত মামুনুর রশীদকে আসামি করে ঘটনার রাতেই আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত