ফলের বাজারে অপরিপক্ক তরমুজ, কেজি ৮০

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০৪:২৭ পিএম

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম ইফতার আজ। ইফতারিতে সব শ্রেণির মানুষ ফল রাখার চেষ্টা করেন। তবে এ বছর রোজা শুরুর আগে থেকেই দেশি ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রোজার প্রথম দিনে সব ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। তাই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনেকেই ইফতারিতে ফলের সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ঢাকার কারওয়ান বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে গতকালের থেকে কেজিতে সব ফলের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দেশি তরমুজ, পেঁপে বড়ই, আনারস, ডালিমের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। বিশেষ করে গতকাল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া তরমুজ আজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অন্যান্য ফলের পাশাপাশি বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। সেসব তরমুজের বেশিরভাগই অপরিপক্ব। আধা পাকা এসব তরমুজ কাটার পর কোনটি রং লাল দেখা যাচ্ছে, কোনটি আবার সাদা-লাল। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে তরমুজ ওঠলেও এখনও বাজার সেভাবে সয়লাব হয়নি।

বাজারে ওঠা বেশিরভাগ তরমুজ অপরিপক্ব হলেও চাহিদা কম নয়। অনেক ক্রেতাকেই তরমুজ কিনতে দেখা গেছে। আবার অনেক ক্রেতা কেজিতে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। বিক্রেতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করতেও দেখা গেছে। 

একাধিক ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সোমবার তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। রমজান শুরুর প্রথম দিনেই কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। যে তরমুজ পিস আকার বিক্রি হত, এখন তা কেজিতে বিক্রি হয়। রমজান আসলেই দোকানিরা ইচ্ছামতো ফলের দাম বাড়িয়ে দেন।

মো. ওমর আলী নামের এক ক্রেতা বলেন, এখনও তো সিজন শুরু হয়নি। তাই তরমুজ ভালো হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আপ প্রথম রোজা, তাই কিনতে এসেছি। ইফতারে তরমুজ অনেক উপকারে আসে। তবে দামটা গত বছরের তুলনায় বেশি মনে হয়েছে। তরমুজের এত দাম হওয়া উচিত নয়। দামটা ৪০-৫০ টাকা হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।

সাবেরা খাতুন নামের এক ক্রেতা বলেন, তরমুজের কেজি ৮০ টাকা হলে আমরা ইফতারিতে কি রাখবো? এ ছাড়াও দেশীয় সব ফলের দাম গতকালের থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি তরমুজ ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একেকটি তরমুজের ওজন দুই কেজি থেকে প্রায় ছয় কেজি পর্যন্ত। গত বছর এই সময় একই আকারের তরমুজ ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। আরও ১৫-২০ দিন পর পরিপক্ব তরমুজ ওঠবে বলে জানান বিক্রেতারা। তখন দামও কমবে আবার আকারও বড় হবে।

তারা আরও জানান, মূলত রমজানকে ঘিরে বাড়তি লাভের আশায় অনেক কৃষক পরিপক্ব হওয়ার আগেই তরমুজ বিক্রি করে ফেলছেন। যেগুলোর রং ও স্বাদ পরিপক্ব তরমুজের তুলনায় অনেক কম। তরমুজ এখনও পরিপক্ব না হলেও, দাম কিন্তু কম নয়।

মো. রফিকুল ইসলান  নামের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, এবার তরমুজের দাম বেশি। গত বছর এই সময় ১০০ তরমুজ ১২-১৩ হাজার টাকা করে আড়ৎ থেকে কিনলেও এবার ২০-২৫ হাজার টাকা করে কিনতে হচ্ছে। আর খুচরা ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে আমরা বিক্রি করছি। তবে এখন যেসব তরমুজ আসছে সেগুলো পরিপক্ব নয়। পরিপক্ব তরমুজ আসতে আরও ১৫-২০ দিন লাগবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত