ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক। জিম্মিদের মধ্যে একজন খুলনার মো. তৌফিকুল ইসলাম। তিনি জাহাজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার (দ্বিতীয় প্রকৌশলী) হিসেবে কর্মরত।
এ ঘটনার পর থেকে তৌফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন। তৌফিকের ৭ বছর বয়সী মেয়ে তাসফিয়া তাহসিনা ও ৫ বছর বয়সী ছেলে আহমদ মুসাফি বাবার জিম্মি হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই অঝোরে কাঁদছে। পরিবারের দাবি, তৌফিকুলসহ দ্রুত সবাইকে ভালোভাবে ফিরিয়ে আনার।
জলদস্যুদের হাতে জিম্মি মো. তৌফিকুল ইসলাম খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ২০/১ করিমনগর এলাকার মো. ইকবাল এবং দিল আফরোজা দম্পতির ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে তৌফিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা মো. ইকবাল বাড়িতে নেই। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই কানে আসে কান্নার আওয়াজ। দুই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন তৌফিকুলের স্ত্রী জোবাইদা নোমান। পাশে বসে চোখ মুছছেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়ি দিল আফরোজা।
জোবাইদা নোমান জানান, মঙ্গলবার বিকেলে শাশুড়ির (দিল আফরোজা) সঙ্গে কথা হয় তৌফিকের। এর আগে দুপুর ২টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার স্বামীর। এ সময় তৌফিক জলদস্যুদের কবলে পড়ার বিষয়টি মা-বাবাকে জানাতে নিষেধ করেন। একই সঙ্গে তার জন্য দোয়া করতে বলেন।
জোবাইদা বলেন, ‘দুপুর ২টায় ও (তৌফিক) প্রথমে ফোন দিয়ে বলে, আমাদের জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। আমাদের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে হইছে। ক্যাপ্টেন স্যারকে ক্যাপচার করে নিছে। দোয়া কইরো। আমাকে মাফ করে দিও।’
পরে বিকাল ৫টায় আবার ফোন দিয়ে বলেছে, ‘আমাদের সোমালিয়ায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এখন আমরা সোমালিয়ার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি। যেতে তিনদিন লাগবে। তারপর থেকে আর যোগাযোগ নেই।’
জোবাইদা নোমান জানান, ২০০৮ সাল থেকে তার স্বামী জাহাজে চাকরি করছেন। এবারই প্রথম এমন বিপদে পড়েছেন। জলদস্যুদের কোনো দাবি-দাওয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই।
তিনি বলেন, ‘এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি যে কোনো মূল্যে, যত দ্রুত সম্ভব তাদের সুস্থভাবে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হোক। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানি যেন তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনে।’
কাঁদতে কাঁদতে তৌফিকের মা দিল আফরোজা বলেন, ‘ছেলেকে জিম্মি করার কথা শোনার পর তাকে কয়েকটি দোয়া পড়ার কথা বলি। তখন সে আমাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কথা বলার একপর্যায়ে জলদস্যুরা তার ফোন কেড়ে নেয়।’
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় আবারও ফোন কথা হয়। কথা বলতে বলতে তার ফোনটি কেড়ে নেয়। এর পর থেকে আর কথা বলতে পারিনি। ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে অন্তত স্বস্তিতে থাকতে পারতাম।’
সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি-২০২৪
‘মা আর কথা নাও হতে পারে, ঈদে যা লাগে কিনে নিও’
ঈদ-নববর্ষ পাশাপাশি, ছুটি মিলতে পারে ৬ দিনের
রোজায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি পাম্প, হতে পারে লোডশেডিং