আরও একবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। আগামীকাল শুক্রবার থেকে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হচ্ছে যেখানে আবারও একবার পুতিনের জয়লাভের ব্যাপারটি প্রায় পাকাপোক্ত; ঠিক তার আগে রুশ সংবাদমাধ্যমে তিনি এ হুমকি দিলেন। ইউক্রেনে মস্কোর বিশেষ সামরিক অভিযান চলাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে পারমাণবিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া। আবার তিনি সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগাদান প্রশ্নে বলেন, রাশিয়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিনিশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন করবে।
নির্বাচনের দুদিন আগে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘আরআইএ’ ও ‘রোশিয়া-ওয়ান’ টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন ভøাদিমির পুতিন। এ সময় তিনি বলেন, শিগগিরই পারমাণবিক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। আর ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখেন না তিনি।
আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হবে আগামী রবিবার। ৭১ বছর বয়সী নেতা পুতিন আরও ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা সবাই পুতিনের জয়লাভের রাস্তাকে সহজ করতে ভোটে অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মনে করে পশ্চিমা বিশ^। এমন মুহূর্তে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া পরমাণু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত কি না। এর জবাবে তিনি জানান, তার দেশ সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকারে পুতিন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে, তাদের দিক থেকে রুশ ভূখ-ে কিংবা ইউক্রেনে যদি সেনা মোতায়েন করা হয়, তাহলে রাশিয়া বিষয়টিকে হস্তক্ষেপ মনে করবে। (যুক্তরাষ্ট্রে) রাশিয়া-আমেরিকা সম্পর্কের বিষয়ে এবং কৌশলগত সংযম বজায়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিশেষজ্ঞ রয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি, সবাই এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির (পরমাণু সংঘাত) জন্য তাড়াহুড়া করছে বলে আমি মনে করি না। তবে আমরা এর জন্য প্রস্তুত।’
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তা সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৬২ সালে কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েতের সম্পর্ক তলানিতে যায় এবং সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে। সাক্ষাৎকারে সেই বৈরিতার প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে সেনা পাঠালে তা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র আছে ব্যবহার করার জন্যই। এ বিষয়ে রাশিয়ার নিজস্ব কৌশল রয়েছে।’
এদিকে ওই সাক্ষাৎকারে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটো জোটে যোগদান নিয়েও কথা বলেন পুতিন। এ সময় তিনি জানান, ফিনল্যান্ড সীমান্তে এখন রাশিয়া তার বাহিনী মোতায়েন করবে এবং ধ্বংসাত্মক সব অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করবে। তিনি বলেন, ‘এ পদপক্ষেপ তাদের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিতকরণের প্রশ্নে সম্পূর্ণভাবেই অর্থহীন কর্মকান্ড। আমাদের সেখানে (ফিনল্যান্ড সীমান্ত) কোনো সেনা ছিল না, এখন থাকবে। সেখানে কোনো ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থাও ছিল না, কিন্তু এখন থাকবে।’
