ডিমের দাম পাইকারিতে কম, খুচরায় প্রভাব নেই

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৪, ০১:৪৬ এএম

ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও সবজির দাম এখনো চড়া। সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিমে ২০ টাকা কমেছে। তবে খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। অপরিবর্তিত দামে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো প্রতি ডজন ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মূলত রোজায় বিক্রি কমায় বাজারে ডিমের দাম কমেছে বলে দাবি করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আগের মতো চড়া দামে সব ধরনের সবজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিমের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২০ টাকা কমে পাইকারি বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকা। পাশাপাশি ২০ টাকা কমে প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। কিন্তু পাড়া-মহাল্লার দোকানগুলোতে আগের মতো চড়া দামে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা করে। প্রতি হালি ডিম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেনা দাম বেশি পড়ায় বাড়তি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। স্টকে থাকা ডিম শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত কম দামে ডিম বিক্রি সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে নিউমার্কেট কাঁচা বাজার এলাকার মুদি দোকানি শিমুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিমের কেনা দাম বেশি পড়ায় এখন কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না।’

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো সব ধরনের সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজার শুরুতে দামের আগুনে পোড়া বেগুনের কেজিতে ৪০ টাকা কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০, নতুন করে বাজারে ঢেঁড়স ৭০ টাকা, করলা ৮০, চিচিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০, কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০, টমেটো ৭০ থেকে ৮০, মানভেদে প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৬০ ও প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, রোজায় চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম কমে আসবে।

সবজির মতো মাছ-মুরগির বাজারে গিয়েও স্বস্তির খবর পাওয়া যায়নি। উল্টো রোজাকে কেন্দ্র করে গেল কয়েক মাস থেকে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দামে যেন আরও উত্তাপ ছড়িয়েছে। সব ধরনের মাছের কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, ইলিশ আকারভেদে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১১০০, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৬০, কাতল ৩৪০ থেকে ৫৫০, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ২৮০, নদীর পোয়া ৩৫০ থেকে ৭০০ ও কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন মাছ বিক্রেতারা।

এদিকে বাজারে মাছের মতো চড়া দামে সব ধরনের মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, ছাগলের মাংস ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা ও প্রতি কেজি গরুর ফ্যাপসা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত