ইফতারে অতিভোজ কাম্য নয়

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩২ এএম

রমজানের অন্যতম শিক্ষা হলো সংযম। এ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো সব কাজ, কথা, ব্যবহার, খাওয়া-দাওয়াসহ সব কিছুতে সংযম অবলম্বন করা। অথচ রমজানে খাবারের পসরা বসে। লাইন দিয়ে মানুষ খাবার কিনে। যেন এ মাসে খাবারটাই মুখ্য। গৃহিণীরা এত ব্যস্ত হন যে, অনেক সময় তাদের নামাজও পড়া হয় না। তাদের ইফতার আয়োজনের কোনো শেষ থাকে না। টেবিল উপচে পড়ে। প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো। কোনো অবস্থাতেই অপচয় করো না। আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। সুরা আরাফ, আয়াত ৩১

‘সাহরি ও ইফতারে যত খুশি খাওয়া যাবে, আল্লাহ এই খাওয়ার হিসাব নেবেন না’ আমাদের সমাজের একটা শ্রেণির মাঝে এমন একটা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। ইসলামের কোথাও এ কথা উল্লেখ নেই। বরং অতিভোজনকে ইসলাম নিরুসাৎহিত করে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি পেট পুরে খবার খায়, তার ওই পেট একটি নিকৃষ্ট পাত্র।’ মুসনাদে আহমদ ৩

প্রিয় নবী (সা.) কম খেতেন। তিনি মুমিনদের পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখতে বলেছেন। (তিরমিজি ২৩৮০) রাসুল (সা.) মাত্র কয়েকটি খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। কয়েক ঢোক পানিই ছিল তার ইফতার। অথচ তার উম্মত হয়ে আমরা কি করছি? সাহরি ও ইফতারে আমাদের অসংযমী আচরণ রোজার মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করছে। আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাসে ইফতার ও সাহরিতে আমাদের সংযমী হতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত আয়োজনকে না বলতে হবে। ইফতার ও সাহরিতে ভুড়িভোজ কখনোই ইসলাম সমর্থিত নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত