তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে এক পা দূরে রাশিয়া ন্যাটোর সংঘাত

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৩ এএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জয় পেয়েছেন ভøাদিমির পুতিন। গত শুক্রবার শুরু হওয়ার পর গত রবিবার ভোটগ্রহণ শেষ হলে তাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলে দেখা যায়, নির্বাচনে পুতিন প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোট দখল করেছেন। অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত তিনি আরেক দফায় প্রেসিডেন্ট পদে বসতে চলেছেন। ৭১ বছর বয়সী এ নেতা ১৯৯৯ সাল থেকে রাশিয়ার ক্ষমতাকাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছেন।

নির্বাচিত হওয়ার পরই পশ্চিমা বিশে^র বিরুদ্ধে নানা সমালোচনামূলক কথা বলেন তিনি। শেষ দিনের ভোটে রাশিয়ার নানা অংশে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভ হয়। বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুর প্রতিবাদে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু দেখা যায়, অন্য তিন প্রতিযোগীর কারও ভোটের হার দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছেনি। তারা কেউ ৪ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, এ নির্বাচনে ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে যার মধ্যে পুতিন একাই ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পান। টানা দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ২০২১ সালে আইন পরিবর্তন করেন পুতিন। ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায়

থাকলে তিনিই হবেন মস্কোকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসক। অর্থাৎ তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্তালিনের চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন।

বিজয়ের পরপরই সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার গণতন্ত্র পশ্চিমের অনেকের চেয়ে বেশি স্বচ্ছ।

এটি স্বচ্ছ ও পুরোপুরি বস্তুনিষ্ঠ। এটা যুক্তরাষ্ট্রের মেইল-ইন ভোটিংয়ের মতো নয়। আপনি সেখানে ১০ ডলার দিয়ে একটি ভোট কিনতে পারবেন।’

এ সময় পুতিন তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান-সংশ্লিষ্ট বাকি কাজগুলোর সমাধানকে অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। এর পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলবেন।

এ সময় তিনি ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য সংঘাতের পরিণতি নিয়েও কথা বলেন। পুতিন বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বে সবকিছুই সম্ভব। এটা সবার কাছেই পরিষ্কার যে, এর এক পা দূরেই পূর্ণমাত্রার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আমি মনে করি এ নিয়ে কেউই আগ্রহী হবে না।’

রুশ প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে এরই মধ্যে ন্যাটো সেনাদের পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইংরেজি ও ফরাসিভাষী লোকজনকে আটক করেছে রাশিয়া। এতে ভালো কিছু নেই, প্রথমত তাদেরই জন্য, কারণ তারা সেখানে মারা যাচ্ছে বিপুল সংখ্যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত