মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪ জনকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৫ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাত সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাগরি গ্রামের বিলে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীর বরাতে পুলিশ বলছে, ওই রাতে বাগরি বিলে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখা যায়। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রথমে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে তাদের গণপিটুনি দেয়। এতে চারজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসাইন জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি গ্রামের মজিদ হোসেনের ছেলে নবী হোসেন (৩৫), সোনারগাঁ উপজেলার রাজাপুর মেখের হাট এলাকার আমানউল্লাহর ছেলে জাকির হোসেন (৩৬) ও আড়াইহাজার উপজেলার ঝাউকান্দি এলাকার শামসুল হকের ছেলে আ. রহিম। এ ছাড়া আহত ব্যক্তির পরিচয়ও জানা গেছে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৮)। তাকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা রয়েছে। নিহত বাকি আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কর্মকর্তা বিল্লাল হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে জাকির নামে একজনের মৃত্যু হয়। সেখান থেকে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাগরি গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেখ বিল্লাল হোসাইন বলেন, আহত ব্যক্তি ডাকাত দলের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তারা সাতজন বিলের পাড়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে আরও তিনজনের আসার কথা ছিল। এ সময় গ্রামবাসী টের পেয়ে তাদের পিটুনি দেয়।

সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি সোনারগাঁয়ের দুর্ধর্ষ ডাকাত সরদার। তার মামা আনোয়ার হোসেনও পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত সদস্য। মামার হাত ধরেই জাকির ডাকাতি শুরু করেন। ২০২২ সালের ৩ মার্চ উপজেলার সাদিপুর গ্রামের নানাখী এলাকায় ডাকাতি করতে গিয়ে দুই সঙ্গীসহ পিটুনির শিকার হন জাকির। গত বছর উপজেলার মহজমপুর গ্রামে এক পুলিশ পরিদর্শকের বাড়িতে ডাকাতি করার পর গ্রেপ্তার হন তিনি।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন জানান,আহত মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধেও একটি ডাকাতির মামলা রয়েছে। তার জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সাতজন ডাকাতির উদ্দেশে ওই বিলে (বাগরি বড় বিল) জড়ো হয়েছিলেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতদের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত