ড্রোনই ভরসা ইউক্রেনের!

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ১১:৪০ পিএম

সংখ্যা ও সামর্থ্যরে দিক দিয়ে ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী অনেক এগিয়ে থাকলেও পশ্চিমা সহায়তা নিয়ে প্রতিরোধের লড়াইটা দুই বছরের বেশি সময় ধরে জারি রেখেছে কিয়েভ। তবে কমে এসেছে তাদের গোলাবারুদের মজুদ। এরই মধ্যে মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে গত রবিবার আরও ছয় বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রুশ নেতা ভøাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন সেনাবাহিনী যে চাপে পড়েছে তার পুরো সুযোগ নিতে চায় মস্কোর বাহিনী। আরও শক্তি নিয়ে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে রাশিয়া। এ অবস্থায় পশ্চিমা বিশ্বের নজর গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের দিকে থাকায় ইউক্রেনের পতন আসন্ন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে ইউক্রেন দাবি করেছে, সংখ্যাগত দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের জন্য তারা নতুন নতুন সমাধান খুঁজছে। আপাতত রাশিয়ার সঙ্গে তাদের শক্তির ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ড্রোন।

গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইউক্রেনের সহকারী সেনাপ্রধান ভাদিম সুখারেভস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ড্রোনের ওপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন সেনাপ্রধান ওলেকসান্দর সিরস্কি। টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করে তিনি বলেন, ‘মনুষ্যবিহীন সিস্টেমের (ড্রোন) উন্নয়ন আমার জন্য প্রাধান্যের বিষয়। আমরা সংখ্যাগত দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের জন্য নতুন নতুন সমাধান খুঁজছি।’

রয়টার্স বলছে, ইউক্রেনের হাতে থাকা প্রথাগত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও কামানের গোলার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। যার ফলে, ড্রোনের ওপর নির্ভর করা ছাড়া আপাতত কিয়েভের হাতে তেমন কোনো বিকল্প নেই। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এতে প্রযুক্তিগত সুবিধাও পেতে পারে ইউক্রেন।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই ড্রোনের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। যার ফলে, যুদ্ধক্ষেত্রে একে অপরের বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার পরিবর্তে এখন এক পক্ষ অপর পক্ষের সামরিক, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীতে সংস্কার করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি শুধু ড্রোনের ওপর নজর দিতে সামরিক বাহিনীর আলাদা একটি বিভাগ তৈরি করেন এবং এর দায়ভার দেন সুখারেভস্কিকে। এই বিভাগটি নতুন ড্রোন তৈরি ও সেনাদের এর ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেবে। তবে রাশিয়াও বসে নেই। রুশ ড্রোন শিল্পও এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। গত কয়েক মাসে ইউক্রেন আকারে ছোট, আরও বেশি মারাত্মক ও দ্রুত চলতে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার বেশ কিছু তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। যার ফলে, বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে রাশিয়ার তেল উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় সাত শতাংশ ধ্বংস হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত