ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতা মারওয়ান ইসা এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় মারা গেছেন। গত সোমবার হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা জ্যাক সুলিভান এমন দাবি করেছেন। তার দাবি অনুসারে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত নিহত হামাস নেতাদের মধ্যে ইসা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ। তবে গাজা উপত্যকার শাসনক্ষমতায় থাকা হামাস তাদের নেতা ইসার মৃত্যু প্রসঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থীশিবিরের নিচে একটি টানেল কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন মারওয়ান ইসা।
বিবিসি বলছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে, প্রথমবারের মতো হামাসের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতার মৃত্যু হলো। হামাসের সামরিক শাখা ইজেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে মারওয়ান ইসাকে ইসরায়েলের মোস্ট ওয়ান্টেড পুরুষদের একজন বলে মনে করা হতো।
গত ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত হামাসের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামাসের রাজনৈতিক নেতা সালেহ আল-আরৌরি বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ দাহিয়েহ এলাকায় বিস্ফোরণে মারা গেছেন। ওই হামলার জন্যও ইসরায়েলকেই দায়ী করা হয়।
এদিকে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাফায় হামলা না চালাতে অনুরোধ করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করেছেন।
সুলিভান বলেছেন, আশা করা হচ্ছে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ বিলম্বিত করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে হামাসের ৫০ জনেরও বেশি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। গতকাল এমন দাবি করেছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। গত সোমবার সকালে সেখানে হামলা শুরু করেছিল তারা। এই অভিযান এখনো চলছে। আইডিএফ বলছে, অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে সোমবার ২০০ সন্দেহভাজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল তারা। আটক ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৭২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।
