জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে থাকা শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২০ মার্চ) আম্মানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক-এর আদালতে তোলা হলে তিনি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম হিরা। এই আইনজীবী বলেন, আদালত আম্মান সিদ্দিকীকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার একই মামলার অপর আসামি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। আগামী রবিবারের মধ্যেই পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অবন্তিকার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আম্মান। বাবার মৃত্যু নিয়ে আম্মনের সঙ্গে আবন্তিকার দূরত্ব তৈরি হয়। অবন্তিকার নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ হওয়ার পর অবন্তিকার বাবা ও মাকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেন উপাচার্য। অভিযোগটি মিথ্যা হলেও এ নিয়ে বিব্রত ছিলেন তার বাবা-মা। মুচলেকা দিয়ে মেয়ে আর এমন করবে না জানান অবন্তিকার বাবা জামাল উদ্দিন। এর পর থেকে অবন্তিকাকে নিয়মিত মানসিক টর্চার করতো আম্মান ও তার সঙ্গীরা। রিমান্ডে পুলিশের কাছে এ সকল ঘটনা জানিয়েছে আসামিরা।
কুমিল্লা সরকারি কলেজের প্রয়াত শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ছিলেন ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার বাবা। এক বছর আগে তিনি মারা যান।
বুধবার দুপুর ১টায় কালো মাইক্রোতে করে পুলিশের প্রায় ১০ সদস্যের একটি দলের নিরাপত্তায় আম্মান সিদ্দিকীকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তার মুখে মাস্ক পরা ছিল। পরে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, রিমান্ডে দুই আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ‘পিসি পার্ক স্মরণিকা’ নামের ভবনে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে নিজের ফেসবুকে তার মৃত্যুর জন্য সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে দায়ী করে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। আম্মান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তিনি হয়রানি এবং হুমকি দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তোলেন। সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসে ডেকে নিয়ে হয়রানি ও মানহানির অভিযোগ তোলেন। এ ছাড়া ‘সেক্সুয়ালি অ্যাবিউজিভ কমেন্ট’ করার অভিযোগও তুলেছেন সুইসাইড নোটে।
এ ঘটনায় শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আম্মান ও দ্বীন ইসলামকে আসামি করা হয়।
বিয়ের ৭ বছর পর স্ত্রী চলে যাওয়ায় দুধ দিয়ে গোসল
ঈদের ছুটির আগে বেতন-বোনাস দেওয়ার নির্দেশ