ঝুঁকি থাকলেও গল্পের প্রতি বিশ্বাস ছিল

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ১২:২২ এএম

লিলুয়া, মেময়ার অব লাভ, নীল অপরাজিতার পর গেল ভালোবাসা দিবসে বুক পকেটের গল্প নাটক দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তরুণ নাট্যনির্মাতা জাহিদ প্রীতম। ঈদের কাজ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর

ভালোবাসা দিবসে ‘বুক পকেটের গল্প’ নাটক নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা লক্ষ করা গেছে। দর্শক সাড়া কেমন উপভোগ করেছেন?

আমার বিগত ৯টি কাজই রিলিজের পর আলোচনায় থেকেছে। দর্শকদের সাড়া ভীষণভাবে পেয়ে এসেছি, এমনকি সারা বছর পেয়ে থাকি। তবে ‘বুক পকেটের গল্প’ অন্য মাত্রা যোগ করেছে। প্রায় এক মাস চলে গেছে, এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিটি সংলাপ, দৃশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রোফাইল বা কাভারে ছবি চেঞ্জ করার সময় সংলাপগুলো ক্যাপশন দিচ্ছে। ইনবক্সেও সাড়া পাচ্ছি, বিশাল বিশাল চিঠি পাচ্ছি। দর্শকের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির গুণী ব্যক্তিত্ব, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভালোবাসা পাচ্ছি,  সবাই মুগ্ধতা নিয়ে দেখছেন, লিখছেন। কেউ কেউ একাধিকবার দেখছেন, ইউটিউবে এক কমেন্ট দেখলাম একজন গুনে গুনে ৭৫ বার নাটকটি দেখেছেন। একজন নির্মাতার সার্থকতাই হলো দর্শক যেন তার গল্পটা দেখে, ভালোবেসে নির্দ্বিধায় লেখে। তাই বলতে পারেন নিজেকে সার্থক মনে হচ্ছে।

ভিউয়ের যুগে একঝাঁক নতুন শিল্পী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঝুঁকি মনে হয়নি?

ঝুঁকি মনে হয়েছে। তবে গল্পের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। জানতাম অভিনয়টা বের করে আনতে পারলে ভালো কিছু দেখাতে পারব দর্শককে। ব্র্যান্ডিং পেতে শুরুতে অসুবিধা হচ্ছিল। মুক্তির দুদিন আগে টিজার দেখে তারা আগ্রহী হয়েছে। বলতে পারেন টিজার-পোস্টার বের হওয়ার পর ক্রিটিক পেজগুলোতে কাজ নিয়ে উচ্ছ্বাস আর দর্শকদের অসম্ভব সমর্থনে ব্র্যান্ডিংরাও সাহস করে এগিয়ে এসেছেন। তাই আমি যখন জানি, আমার প্রতিটা কাজে দর্শকদের ভালোবাসা আর অপেক্ষা থাকে তখন আর ঝুঁকি মনে হয় না, চ্যালেঞ্জিং লাগে। আর আমি বিশ্বাস করি রিস্ক হ্যায় তো, ইশক হ্যায়...। এখন তো সব নতুন আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করার অফার পাচ্ছি, আবার বাজেটও ইস্যু হচ্ছে না। বলতে পারেন ‘বুক পকেটের গল্প’ রিলিজের পর তারুণ্যের নতুন জাগরণ শুরু।

নিজস্ব গল্পের বাইরে আপনার নির্মাণ দেখা যায় না বললেই চলে। এটা কেন? স্বাচ্ছন্দ্য পান না?

আমি প্রচুর মানুষ পড়ি, প্রতিটি মানুষই আমার কাছে গল্প। আমার দেখার চোখ ভিন্ন। আমি জানি আমার দর্শনের একটা অন্যতম অংশ প্রভাবিত হয় আল্লাহর পবিত্র বাণী থেকে। প্রতিটি গল্পের পেছনেই থাকে স্রষ্টার দর্শনের প্রতিচ্ছবি। তাই এই দর্শনটা আমি অন্য কারোর গল্পে পাই না বা আমার দর্শনের সঙ্গে মিলে না। আমার ভালোবাসা প্রকাশ, জীবন নিয়ে অদ্ভুত দর্শনই আমাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে। এই বিশ্বাসটা নিয়েই গল্প লিখতে বসি আর স্বাচ্ছন্দ্যে থাকি যে, এমন গল্প আগে কেউ দেখেনি এবং কারোর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত বা কপি করা নয়। একদম নিজের জীবন ও নিজের কাছের মানুষের জীবন থেকে নেওয়া। আর গল্পগুলোও এ জন্য হয়তো দর্শক বেশি কানেক্ট করতে পারে।

নাটক নির্মাতাদের অনেকেই এখন ওটিটিতে ঝুঁকছে। আপনাকে কবে দেখা যাবে?

গত এক বছর ধরেই বিভিন্ন ওটিটিতে আমার গল্পগুলো সাবমিট করা আছে। বেশ কয়েকটার কাজের ঘোষণা খুব দ্রুতই আসবে। সেই অপেক্ষাই করছি। ওটিটিতে অবশ্যই ভালো গল্প নিয়েই আসতে চাই যেগুলো আগে কখনো কেউ দেখেনি।

সামনে ঈদের পরিকল্পনা কী?

ঈদের পরিকল্পনা কখনোই শুটের আগে প্রকাশ করতে চাই না। তবে দুর্দান্ত এক বিষন্ন গল্প নিয়ে আসব এতটুকু বলব। আর কথা দিলাম, দেশ রূপান্তরকেই সবার আগে জানাব ফিকশনের টাইটেল।

সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি? নাকি নিজেকে নাটকেই সীমাবদ্ধ রাখবেন?

নাটক বা সিনেমা, কোন প্ল্যাটফরমই আমার কাছে ব্যতিক্রম না। কারণ আমি আমার গল্পগুলোকে নাটক না বলে ফিকশন এ জন্যই বলি, কারণ আমার গল্পগুলো সিনেমার গল্প আর সেই এফোর্ডটা দিয়েই আমি সেটা বানাই। তাই গল্প বলায় আমি ফিনিক্স পাখির মতো যাযাবর বানাতে চাই। যে প্ল্যাটফরমই হোক না কেন, গল্প যেন সিনেমার মতোই হয়। টিভিতে গেলে নাম হবে টেলিফিল্ম, থিয়েটারে গেলে নাম হবে সিনেমা। এই তো! তবে দুই বছর ধরেই থিয়েটারের জন্য অফার পাচ্ছি, সময়ও নিচ্ছি কারণ, আমি থিয়েটারের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি আমার প্রথম কাজ থেকেই। সবার কাছে শুধু দোয়া চাই, যেন বিশুদ্ধ সব গল্প শোনাতে পারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত