রাস্তা কাটায় অকেজো সেতু!

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ১০:১০ পিএম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এক সপ্তাহ ধরে কয়েক গ্রামের মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এতে আড়াই কোটি টাকায় নবনির্মিত একটি ব্রিজ অকেজো হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ইজারাবন্দ গ্রামের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর হতে ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের চিকনা ভায়া ছলিমপুর সড়কটির প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা। এর পর প্রায় দুই শ মিটার কাঁচা রাস্তার পরই অলহরী নদীর (নাগেশ্বরী নদী) ওপর প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডির একটি নতুন ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। এ ব্রিজ ব্যবহার করে মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ইজারাবন্দ, জয়দা, ধূরধূরিয়া (ফুলবাড়ীয়া) গ্রামের বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন অস্থায়ী বাঁশ-কাঠের তৈরি ব্রিজে চলাচল করা এ বিপুল সংখ্যক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।

কিন্তু সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামের স্থানীয়রা নিজস্ব স্বার্থে অটোস্ট্যান্ড নিজেদের এলাকায় রাখতে রাস্তা কেটে ফেলে। ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

তবে এ বিষয়ে উল্টো কথা বলছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, অটোস্ট্যান্ড নিয়ে কথা হলেও মূল বিষয় ব্রিজ হওয়ার আগে ওই পাড়ের লোকজন রাস্তার জন্য টাকা দেওয়ার কথা বলে রাস্তার জমি নিয়েছিল। এখন তারা টাকা না দিয়ে তালবাহানা করছে।

ভুক্তভোগী আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, আমাদের অবহেলিত কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর এই ব্রিজটি হয়েছে। এতে আমাদের মালামাল পরিবহনসহ যাতায়াতে সময় এবং খরচ দুটিই কমেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় নদীর ওই পাড়ের কিছু লোভী মানুষের কারণে এক সপ্তাহ ধরে আমরা ব্রিজের সুফল ভোগ করতে পারছি না। তারা রাস্তা কেটে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই, প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

জমিদাতা পরিবারের লোক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সবার সুবিধার কথা চিন্তা করে অটোস্ট্যান্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সবার সঙ্গে বসে যেভাবে সুবিধা হবে সেভাবে করতে। কিন্তু তাদের কথা অনুযায়ী জমির মূল্য হিসেবে টাকা দেওয়ার শর্তে আমরা তাদের জমির ব্যবস্থা করে দেই। এখন বেশ কয়েকবার তারিখ করেও টাকা না দিয়ে তারা বিভিন্ন তালবাহানা করছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারও জানে।

ত্রিশাল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাসিমুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি ওখানে গিয়ে কাউকে পাইনি। আশপাশের লোকজন বলেছে, জমিদাতাদের না জানিয়েই রাস্তার মাপ নেওয়ায় জমিদাতারা রাগ করেছে। রাস্তার সংযোগ ছাড়াই ব্রিজ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রিজ হওয়ার আগে ওখানে কোনো রাস্তা ছিল না। পরে আমি রাস্তা করে দিয়েছি। তবে রাস্তা কেন কাটল সেটা আমি বলতে পারব না।

ত্রিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসাইন বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবগত না। তবে শুনেছি রাস্তা কেটেছে। খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি রাস্তা কেটে থাকে তবে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল আহমেদ জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত