জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব নিতে গত জানুয়ারিতে বিপিএলের মাঝপথে বিরতি নেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সে সময় সিলেট স্ট্রাইকার্সের কোচ রাজিন সালেহ বলেছিলেন, এ বছর আর বিপিএলে মাশরাফী ফিরবেন না।
ঢাকা লিগ শুরু হয়ে যাওয়ার তিন রাউন্ড পর লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জার্সিতে আবার মাঠে ফিরলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তার এই ফেরাটাকে ‘রাজসিক প্রত্যাবর্তন’ই বলতে হয়। অসাধারণ বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে রূপগঞ্জকে লিগে চতুর্থ জয় এনে দিয়েছেন তিনি।
বিকেএসপির মাঠে ৪০ বছর বয়সী মাশরাফী ধীরগতিতে কয়েক কদম দৌড়ে বল ছুড়েছেন। নিখুঁত লাইন-লেংথের পাশাপাশি আউট সুইংও করিয়েছেন আগের মতোই। তাতেই হয়েছেন সফল। টানা ৮ ওভারের স্পেলে ১৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মাশরাফী। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো ৫ উইকেট নিলেন তিনি।
দলের পঞ্চম বোলার হিসেবে ১১তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন মাশরাফী সেই ওভারের পঞ্চম বলেই প্রীতম কুমার এবং আনিসুল ইসলামের জুটি ভাঙেন তিনি। অফ স্টাম্পের ওপর পিচ করে হালকা থেমে আসা ডেলিভারিতে ফিরতি ক্যাচ দেন প্রিতম, যা সহজেই লুফে নেন মাশরাফী।
নিজের চতুর্থ ওভারে মাশরাফী নেন দুই উইকেট। সেøা মিডিয়াম পেসে আউটসুইংয়ে হালকা বেরিয়ে যাওয়া বলেতে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাব্বির হোসেন শিকদার (৬)। এর এক বল পরই লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ফয়সাল আহমেদ (০)।
পরের ওভারে আবারও উইকেট নেন মাশরাফী। তাকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ডিপ কভারে শামীম পাটোয়ারির হাতে ধরা পড়েন মইন খান। ইনিংসের ২৩তম ওভারে মাহফুজুর রহমান রাব্বিকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মাশরাফী। তার শর্ট বলে পুল করে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মাহফুজুর।
মাশরাফীর এমন বোলিংয়ে গাজী গ্রুপ ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায়। পরে রূপগঞ্জ ২৮ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় ম্যাচ। তাদের পক্ষে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪৪ বলে ৪৭, তৌফিক খান তুষার ৩৬ এবং শামীম পাটোয়ারি ১৬ বলে ২৬ রান করেন।
আবাহনী-প্রাইম ব্যাংকের মতো চার ম্যাচে চার জয় পেল রূপগঞ্জ।
গতকাল অন্য ম্যাচে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে মোহামেডান। আগে ব্যাটিং করে ১৮৭ রানে অলআউট হয় পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব। সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন মিজানুর রহমান। তানভীর হায়দারের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান। তিন উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।
মোহামেডানকে সহজ জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা মাহিদুল ইসলাম অংকন ও প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের। মাহিদুল ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর প্রান্তিক ৬০ রান করেন।
লো-স্কোরিং ম্যাচ হয়েছে ফতুল্লাতেও। আগে ব্যাট করে ২২৪ রানে অলআউট হয় শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। ইরফান শুক্কুর (৩৮), মার্শাল আইয়ুব (৩২), তানজিদ হাসান তামিম (২৭) ইনিংস শুরু করেও বড় করতে পারেননি। চার উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধা।
যদিও ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় গাজী টায়ারস ক্রিকেট একাডেমি। শামিম মিয়ার ৪৭ ও গাজী মোহাম্মদ তাহজিবুল ইসলামের ৩০ ছাড়া বলার মতো স্কোর নেই আর কারও। শাইনপুকুরের হয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
