ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহতম হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বলা হচ্ছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটিই জ্বালানি সুবিধায় সবচেয়ে বড় হামলা। ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় রাশিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন রয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইউক্রেন জানায়, জাপোরিজিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের বৃহত্তম বাঁধ দিনিপার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে রাশিয়া।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সারা ইউক্রেনের ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলছে, রাশিয়া ৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং ইরানের তৈরি ৬৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। কিন্তু বাকিগুলোর আঘাতে ইউক্রেন জুড়ে নিহত হয়েছে পাঁচজন। সেইসঙ্গে জ্বালানি খাতে বড়সড় ক্ষতি করেছে।
ইউক্রেনের বাঁধ প্রকল্পগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইউক্রিদ্রোয়েনারগো’ বলছে, দিনিপার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে আগুন জ্বলছে। জরুরি বিভাগগুলো ও বিদ্যুৎ কর্মীরা ঘটনাস্থলেই রয়েছেন।
জাপোরিঝিপিয়ার প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের শহরে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং স্থানীয় কিছু বাসিন্দা আহত হয়েছে। আবার ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী হারমান হালুশচেংকো বলেছেন, ‘শুধু ক্ষতি করার জন্য নয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় সংকট তৈরি করতে এই হামলা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটির বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।’ ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলার কারণে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর নিপ্রোপেত্রোভস্কে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে।
ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ শহরের মেয়র ওলেক্সান্দার ভিলকুল জানিয়েছেন, তার শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
মধ্যাঞ্চলীয় আরেকটি শহর ভিন্নিৎসার মেয়র সেরহি বোরজোভ জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তার শহরেও আঘাত হানে।
আবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের এলাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে স্কুল, আবাসিক ভবন ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
