দেশের জনগণ কারও প্রভুত্ব স্বীকার করবে না : ফখরুল

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৪, ০৩:১৩ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফকির আলমগীরের (প্রয়াত গণসংগীত শিল্পী) একটা চমৎকার গান আছে ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারও দানে নয়...’। আমরা রক্তের দাম দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, কারও দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নাই। আজকে সেই বোধ নিয়ে রুখে দাঁড়ান। আন্তর্জাতিক বিশ্ব নিশ্চয়ই সে বিষয়গুলো দেখবে, দেখেছে অতীতে। আর কোনো দেশ যদি আমাদের মনে করে, প্রভুত্ব করবে।  

বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন সেই প্রভুত্ব স্বীকার করে নাই, কখনো করবে না। মোগল আমলেও করেনি, ব্রিটিশ আমলেও করেনি, পাকিস্তান আমলেও করেনি।’

গতকাল সোমবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

এ সময় কার্যালয়ের ফুটপাতের একপাশে সড়কে ছোট পরিসরে আয়োজিত সমাবেশের ব্যানারে ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন করুন’ লেখা দেখা যায়। গত বছরের ২৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারের সাড়ে তিন মাস পর মুক্তির পর গত শনিবার দেশে ফিরে এটি তার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। হাফিজ (হাফিজ উদ্দিন আহমেদ) ভাই আমার চেয়েও বড়। আমরা এখনো লড়ছি, কথা বলছি। কিন্তু আমরা এখনো বিশ্বাস করি, এই দেশকে পরাধীন করে রাখার ক্ষমতা কারও নেই। যারা বিভিন্ন নাটক করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদের একদিন চলে যেতেই হবে। সত্যিকার অর্থেই সফল গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তারা (সরকার) বলে, দারিদ্র্যের সংখ্যা নাকি কমে এসেছে ১৯ শতাংশ। নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মসূচির আওতায় সরকার যে ভাতা দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতা, দরিদ্র ভাতায় সরকারি দলের লোকেরা ভাগ বসায়। হাজার হাজার কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে। ব্যাংকগুলো লোপাট করে দিয়ে এখন ব্যাংক একীভূত হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পাকিস্তানে ইমরান খান দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে তরুণদের, মহিলাদের মাঠে আনতে হয়। ৩৪ বছর সাজা হয়েছে তার। ২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। জোর করে দল বদল করা হয়েছে। তারপরও জেলে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচনের। সেই নির্বাচনে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তরুণেরা।’

একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অস্বীকার করতে পারে কিন্তু এটা সত্য আজকে এই দিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা দফারফা করার জন্য। যখন ব্যর্থ হয়েছে, জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন, তখন আমাদের তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা কেউ দেশে থাকেননি। পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আর মূল নেতা পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমপর্ণ করে পাকিস্তান চলে গেছেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই সমস্ত মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধ করেছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি।’

স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যুব সমাজ, তরুণ সমাজকে বলব, আজকে মোবাইল রাখেন, ল্যাপটপ রাখেন দেশের ডাকে, জনগণের ডাকে আপনাদের মা-বোনের ইজ্জত রক্ষায় রাজপথে নেমে আসুন। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই। অতীতে দেশে কোনো আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি, গণতন্ত্র ফেরানোর এই আন্দোলন ব্যর্থ হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত