ঈদে সাইমন সাদিকের ‘মায়া: দ্য লাভ’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই ছবিতে শবনম বুবলীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন সাইমন সাদিক। এছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান ও আনিসুর রহমান মিলন। ঈদে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাইমনের মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন
‘মায়া: দ্য লাভ’ এই সিনেমায় কাজ করেছেন, কাজের অভিজ্ঞতা ও সিনেমার আদ্যোপান্ত জানতে চাই
মায়া সিনেমাটা একটা প্রেমের সিনেমা। কিছু মানুষ আছে একটা পর্যায়ে প্রেম বিশ্বাস করে না। কিন্তু তারা প্রেমেই বাঁচে। মানুষ প্রেম নিয়ে চলে। কিছু মানুষ আছে, যারা ভাবে প্রেম এলে পৃথিবীতে স্বর্গ নেমে আসে। পরিচালক জসিম উদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। প্রযোজক আশিক ভাই যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন এই ছবি গুণগতভাবে ভালো করার জন্য। অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, যেহেতু অনেক শিল্পী এই ছবিতে শিডিউল মেইন্টেইন করার বিষয় ছিল। নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেসব সমাধান করেছেন। এসবের মধ্য দিয়েও নির্মাতা চেষ্টা করেছেন মারাত্মক একটা ভালো সিনেমা করার জন্য।
বুবলীর সঙ্গে প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করলেন, অভিজ্ঞতা কেমন?
বুবলীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারের অভিজ্ঞতা ভালো। উনি একজন ভালো অভিনেত্রী, তাকে সু-অভিনেত্রী বলা যায়। উনার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা যথেষ্ট ভালো।
আপনার আসন্ন কাজ নিয়ে বলুন, আপনার ওয়েব সিরিজে কাজ করার আগ্রহ ছিল সেটার কতদূর?
আমার বেশ কিছু কাজ আছে। ঈদের পর আনন্দ অশ্রু আসবে, চাদর আসবে। এসব ঈদের পরে মুক্তি পাবে অনুমান করা যায়। আর এ বছরেই হয়তো আমাকে প্রথমবারের মতো ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে। চলচ্চিত্র নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু আমি যেসব প্রত্যাশা করব সেসব যে বাস্তব হবে এমনটা বলা যায় না। কাজ করে যাচ্ছি, সঠিকভাবে কাজ করলে ইনশাল্লাহ নিজের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য স্পর্শ করতে পারব বলে মনে করি।
আপনি দেশে হিন্দি ছবি আমদানির বিরোধিতা করে আসছেন বরাবরই, এটা কেন?
দেশে হিন্দি ছবি আমদানিতে অবশ্যই দেশীয় চলচ্চিত্রের ক্ষতি হচ্ছে। আমি বুঝি না হিন্দি ছবি আমদানির বিষয়ে হল মালিক, পরিবেশকদের আগ্রহ সেদিকে চলে যায়। দেশপ্রেমটা এখানে অনেক বেশি জরুরি। এটা নিয়ে আসলে স্কুলিং প্রয়োজন আমাদের, প্রয়োজন কাউন্সেলিংয়ের কেননা আমাদের করোটিতে থাকতে হবে যে দেশ আগে। চলচ্চিত্রের যে জায়গাটায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি সেটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়াটা জরুরি।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতা ছিলেন, রাজনৈতিক নেতা হওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
ভবিষ্যতে নেতা হওয়ার ইচ্ছে বিষয়ে বলতে গেলে বলব- নেতা হতে চাইলেই তো নেতা হওয়া যায় না, সেটা রক্তে থাকতে হয়। এমন ইচ্ছে রয়েছে। তবে আপাতত কাজ করছি, কাজের প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছি, আপাতত কাজটাই করতে চাই। আরেকটু স্পষ্ট করে বলতে গেলে ভালো কিছু কাজ করতে চাই। যেহেতু এই কাজের কারণেই আমি সাইমন সাদিক। শেষ পর্যন্ত দেখা যাক।
আপনাকে মাঝেমধ্যেই মাছ ধরতে দেখি, অবসরে গ্রামে চলে যাওয়া, মাছ ধরা- এটাই প্রিয় কাজ নাকি?
অবসর পেলে গ্রামে চলে যাই। ঘোরাফেরা করি। ঘুরে বেড়ানোটা আমার খুবই পছন্দের। এছাড়াও আড্ডা দিই। গ্রামে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো আড্ডা দেওয়ার বিষয়টি আমার ভক্তরা জানেন। আমি খুবই আড্ডাপ্রিয় মানুষ। সেখানে হাওর, বিলে, খালে সুযোগ পেলে মাছ ধরি। সত্যিই এটা আমার খুব পছন্দের একটা শখ। অনেকে অবসরে অনেক কিছু করেন। কিন্তু আমার এসব অত্যন্ত প্রিয়। পরিবারকে সময় দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
ঈদে আরও অনেকগুলো ছবি মুক্তি পাচ্ছে, আপনার কী ধারণা, সিনেমাগুলোর ব্যবসা কেমন হবে?
সামনে ঈদ। ঈদে প্রত্যেকটা সিনেমা ভালো যাক। সবার সিনেমা ভালো ব্যবসা করুক এটা আমি সবময়ই চাই। ভালো ব্যবসা করলে আরও ১০ জন প্রযোজক আসবে। ইন্ডাস্ট্রি চাঙ্গা হবে। একটা সিনেমা দিয়ে তো সারা বছর চলা যাবে না। আমি মনে করি এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া বেশিরভাগ সিনেমা হিট করবে।
