বিআরটি প্রকল্পের গণশুনানিতে গণ-অসন্তোষ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৬ এএম

গাজীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল ও যানজট থেকে রক্ষার জন্য ২০১৭ সালে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের সর্ববৃহৎ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুন ও আগস্ট মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে গাজীপুরবাসীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহগামী যানবাহন ও যাত্রীদের ১২ বছরের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের অবসান হবে বলে বিআরটি প্রকল্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০২৩-২৪ অনুযায়ী এয়ারপোর্ট-গাজীপুর রুটে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত গণশুনানিতে এ তথ্য জানান প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে শুনানিতে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এ প্রকল্পের নকশা, ফুটপাত, ড্রেন নির্মাণ, ফ্লাইওভার, সড়ক পারাপারের জন্য তৈরি করা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ নানা বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, ত্রুটিপূর্ণ নকশা ও পরিকল্পনার কারণে বছরের পর বছর গাজীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এ প্রকল্পটি। তারপর বিপুল ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটিতে নানা অসংগতি রয়েই গেছে, যা সাধারণ মানুষের চোখে দৃশ্যমান হলেও প্রকল্পের কর্তাব্যক্তিদের চোখে পড়ছে না।

গণশুনানিতে জানানো হয়, গাজীপুর শহরের শিববাড়ি থেকে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ বাসে যেতে সময় লাগবে ৪৪ মিনিট। কোম্পানির নিজস্ব ১৩৭টি নতুন ডিজেলচালিত এসি বাস চলাচল করবে। প্রকল্পের অধীনে শিববাড়ি ও বিমানবন্দরে দুটি বাস টার্মিনাল, ৮টি ফ্লাইওভার, ২৫টি বাস স্টপেজ, ১৫টি ফুট ওভার ব্রিজ, ফুটপাত ৩২ কিলোমিটার, উভয় পাশের ড্রেন ৫৫ কিলোমিটার এবং মাটি থেকে নিয়ম অনুযায়ী উচ্চতা থাকবে ৮ দশমিক ৫ মিটার। বাস চলাচলের সময় কোথাও জট থাকবে না এবং যথারীতি ৪৪ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছার নিশ্চয়তা থাকবে।

গণশুনানিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন সাংবাদিক প্রকল্পের ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রকল্পের কয়েকবার ব্যয়-বৃদ্ধির সমালোচনা করে জনদুর্ভোগের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রকল্প-সমাপ্তির শেষপর্যায়ে এসে গণশুনানি না করে প্রারম্ভিককালে গণশুনানি করলে যেসব ত্রুটি ধরা পড়েছে, সেগুলো এড়ানো সম্ভব হতো বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।

গণশুনানিতে বলা হয়, প্রকল্পের এই সড়কটি চাহিদা অনুযায়ী প্রশস্ত নয়। এ ছাড়া ফুটপাতের স্বল্পতা, ইউটার্নগুলো অনেক দূরবর্তী স্থানে, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং ফুটওভার ব্রিজ পর্যাপ্ত নয়। এসব ত্রুটি নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রকল্প কর্র্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করা হয়।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ফুটপাত তৈরি এবং বাস বে তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ করে অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে তা আলোচনার মধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করা হবে।

গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এ কে এম শামীম আক্তার। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিআরটির প্রকল্প পরিচালক মো. ইলিয়াস আহমদ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন। গণশুনানিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান, মুকুল কুমার মল্লিক, বর্তমান সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ সরকার, মো. আমিনুল ইসলাম ও শরীফ আহমদ শামীম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত