ভুলের কাফফারায় সদকাতুল ফিতর

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

জেনে রাখা ভালো : সদকাতুল ফিতর দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। একটি হলো ‘সাদাকাহ’ অন্যটি ‘ফিতরুন’। সাদাকাহ মানে দান আর ফিতরুন মানে উন্মুক্তকরণ বা ভঙ্গকরণ। ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করা সদকাকে সদকাতুল ফিতর বলা হয়। দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্র্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, তাই এটাকে সদকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়। ফিতরা রমজান মাসে রোজাদারদের ভুল-ত্রুটির কাফফরা হিসাবে দেওয়া হয়।

কোরআন থেকে : প্রকৃতপক্ষে সদকা ফকির মিসকিনদের হক এবং সেই সব কর্মচারীদের যারা সদকা আদায়ের কাজে নিয়োজিত, যাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য তাদের। তাছাড়া দাস মুক্তিতে, ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধে, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের সাহায্যেও (তা ব্যয় করা হবে)। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -সুরা তাওবা, আয়াত ৬০

হাদিস থেকে : রাসুল (সা.) সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা দ্বারা রোজার যে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে সেটার কাফফারা এবং মিসকিনদের খাদ্য প্রদানের জন্য। ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করলে তা সদকাতুল ফিতর হিসেবে গণ্য হবে। আর ঈদের নামাজের পর আদায় করলে তা অন্যান্য সাধারণ দানের মতো একটি দান হবে। -আবু দাউদ, হাদিস ১৬০৯

করব : ফিতরা প্রদান।

ছাড়ব : কৃপণতা।

মাসয়ালা : সদকাতুল ফিতর প্রদানের সময় প্রদানকারী যে এলাকায় অবস্থান করছে ওই এলাকার গরিবরাই তা বেশি হকদার। ওই এলাকায় সে স্থায়ী হোক বা অস্থায়ী। কিন্তু যদি তার বসতি এলাকায় কোনো হকদার না থাকে বা হকদার চেনা অসম্ভব হয়, তাহলে তার পক্ষে উকিল নিযুক্ত করবে। সে উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে তার সদকাতুল ফিতর আদায় করে দেবে।

ভুল ধারণা : ফিতরা সবাইকে দেওয়া যায়। এটা ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে ফিতরা সবাইকে দেওয়া যায় না। ফিতরা কোরআনে বর্ণিত আট শ্রেণির লোকদের দিতে হয়।

আমল : যার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনস্তদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। -ফাতহুল কাদির- ২/২৮১

সুসংবাদ :  রমজানের রোজা সাদকাতুল ফিতর আদায় করার পূর্ব পর্যন্ত আসমান-জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে। -তারগিব ওয়াত তারহিব

উপকারিতা : দীর্ঘ একমাস রোজা পালনের পর অসহায় মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে।

দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়াজজিল্লাতি, ওয়া আউজুবিকা মিন আন আজলিমা আও উজলিমা।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দরিদ্রতা থেকে। আপনার কম দয়া ও অসম্মানী থেকে। আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় চাই কাউকে অত্যাচার করা থেকে অথবা কারও দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত