মাছের রেণু উৎপাদন বাড়াতে ৩৭১ কোটির প্রকল্প

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

দেশের ১০৮টি উপজেলায় ছোট-বড় ১৪৩টি সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার রয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের। এসব খামার আরও আধুনিকায়ন ও বীজ উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়াতে ৩৭১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি মৎস্য খামার আধুনিকীকরণ এবং প্রকল্প এলাকার মাছের উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হবে, খামারে উন্নত মৎস্য চাষ প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি উন্নত কৌলিতাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন প্রজননক্ষম মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্য খাতে নিয়োজিত জনবলের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে।

এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ৩১টি খামারে বটমল ইনার মাছ চাষ প্রযুক্তির প্রদর্শনী স্থাপন, আইওটি ডিভাইস স্থাপনের মাধ্যমে খামার অটোমেশন, খামারের পুকুরগুলোর রিমডেলিংয়ের মাধ্যমে আধুনিকায়ন, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, খামারে ক্রায়োপ্রিজারভেশন করা হবে।

তবে মাছের খামারের আধুনিকায়নই নয়, দেশের এসব সরকারি মৎস্য খামারে প্রশিক্ষণের সুবিধাদিসহ অফিস ভবন নির্মাণ, ১১৩টি খামারের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ২৭টি খামারে অফিস ভবন-কাম-ডরমেটরি ভবন ও লেবার শেড নির্মাণ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উদ্যোক্তা ও মৎস্যচাষিকে প্রশিক্ষণ প্রদান, যান্ত্রিকীকরণের নিমিত্ত যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন করবে অধিদপ্তর।

মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, দেশে বর্তমানে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় ১৪৩টি ছোট-বড় মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার, হ্যাচারি, নার্সারি রয়েছে। দেশি-বিদেশি অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এ খামারগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। গুণগত মানের রেণু ও পোনা উৎপাদনের পাশাপাশি সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার-হ্যাচারি-নার্সারিগুলোকে অঞ্চলভিত্তিক ব্রুড উন্নয়ন ও সংরক্ষণ এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের জাত সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারি খামারসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির ও মৎস্য খামারসমূহ যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিক মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

এক একনেকে মন্ত্রীর ৩০ প্রকল্প অনুমোদন : মাত্র একটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রেকর্ডসংখ্যক ৩০টি প্রকল্প অবহিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুস সালাম। সাধারণত মন্ত্রীর ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দিতে পারেন। তবে এর আগে এক একনেকে এত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এত প্রকল্প একসঙ্গে অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো একটি প্রকল্প অনুমোদন করিনি। এগুলো একটিও আমার অনুমোদন করা নয়। এর আগের মন্ত্রী যিনি ছিলেন, তিনি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ, তিনিই যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এগুলোর অনুমোদন করেছেন। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি সহজ মানুষ নই। এ ক্ষেত্রে আমি অনেক কঠিন।

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মানা হয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সঙ্গে সঙ্গেই বাস্তবায়িত হয়ে যায়।

মিরপুর বেনারসি পল্লীর তাঁতশিল্পের উন্নয়নে ১১৫ কোটি টাকা : মিরপুর বেনারসি পল্লীতে গড়ে ওঠা তাঁতশিল্পের উন্নয়নে ১১৫ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব এলাকায় তাঁতশিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

চলতি সময় থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদে ঢাকা জেলার উত্তর সিটি করপোরেশন আওতায় ভাসানটেক, মিরপুর-১৭ নম্বর সেকশনের জোয়ার সাহারা মৌজায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁতিদের উন্নত সেবা দেওয়া, তাঁতশিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং তাঁতিদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ১৪ হাজার ১৫৪ বর্গমিটার আয়তনের দশতলা তাঁত ভবন নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, আরসিসি সংযোগ সড়ক, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও অফিস সরঞ্জামাদি কেনা হবে।

একনেক সভা জানায়, তাঁতশিল্পের উন্নয়ন এবং তাঁতিদের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকাল হতে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে ভাড়া ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের নতুন কার্যক্রম ও প্রকল্প নেওয়ার ফলে জনবল কাঠামো এবং কার্যপরিধি উভয়ই বাড়ায় তাঁত বোর্ডের জন্য একটি নিজস্ব ভবন স্থাপন করা প্রয়োজন।

১১ প্রকল্প অনুমোদন : গতকালের একনেক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৪২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৯৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৪৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত