দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ২৬ শতাংশ ব্যবসায়ী। আর ৬৮ শতাংশই কোটিপতি। সংরক্ষিত নারী সদস্যদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত সদস্যদের হলফনামার এ তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৩ জনের (২৬ শতাংশ) পেশা ব্যবসা। এ ছাড়া ৭ জন (১৪ শতাংশ) চাকরিজীবী, ৫ জন (১০ শতাংশ) শিক্ষক, ৫ জন (১০ শতাংশ) গৃহিণী, ২ জন (৪ শতাংশ) আইনজীবী ও ২ জন (৪ শতাংশ) কৃষিজীবী। ৮ জন (১৬ শতাংশ) তাদের হলফনামায় পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করেছেন। বাকি ৮ জন (১৬ শতাংশ) বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
নারী সংসদ সদস্যদের আয়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ সংসদ সদস্যের মধ্যে বার্ষিক ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয় করেন মাত্র ১০ জন (২০ শতাংশ)। আয়ের ঘর পূরণ করেননি ২ জন।
এ ছাড়া বছরে ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন ২০ জন (৪০ শতাংশ), ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১০ জন (২০ শতাংশ), ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেন ৫ জন (১০ শতাংশ) এবং ১ কোটি টাকার বেশি আয় করেন ২ জন (৪ শতাংশ)।
সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা প্রকৃত সম্পদের হিসাব পাইনি। হয়তো এই সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি হবে। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক না। ফলে অনেকে সম্পদের প্রকৃত তথ্য দেন না। তারপরও আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। তাতে দেখা গেছে, ৬৮ ভাগ সদস্যের কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে। ৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে ১৪ জনের। ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক ১০ জন (২০ শতাংশ)।
ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩ জনের দায়দেনা রয়েছে। ৫ কোটি টাকার ওপরে ঋণ রয়েছে অপরাজিতা হকের। তার ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৮২৩ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৪১ জন। লক্ষাধিক টাকার ওপরে আয়কর দিয়েছেন ১৯ জন। ১০ লাখ টাকার বেশি আয়কর দিয়েছেন ১০ জন। বাকি ৯ জনের আয়কর সার্টিফিকেট আছে, তবে বিবরণী নেই।
সুজনের সমন্বয়ক জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩০ জন (৬০ শতাংশ) স্নাতকোত্তর (২ জন পিএইচডিসহ), ৮ জন (১৬ শতাংশ) স্নাতক, ৪ জন (৮ শতাংশ) এইচএসসি, ৫ জন (১০ শতাংশ) এসএসসি এবং ৩ জন (৬ শতাংশ) এসএসসির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনে ৫০ নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও তা সংসদে নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না। আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। ফলে নারীদের প্রতিনিধিত্ব হওয়া উচিত সংসদের অর্ধেক। তবে অতীতে অনেক কম ছিল, এখন বেড়েছে, যা ইতিবাচক।’
তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে বড় সমস্যা হলো এখানে কোনো নির্বাচন হয় না। এটা মূলত দলীয় ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের অনুগ্রহের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের দক্ষতা যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় না।’
