জামালপুর পৌর কবরস্থানে ওয়াহিদুল করিম খান তন্ময় (৩৫) নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে ওই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের বনপাড়া এলাকায় পৌর কবরস্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুল করিম খান তন্ময় পৌর শহরের শহীদ হারুন সড়ক এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম খানের ছেলে এবং সে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন।
আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ জুম্মার নামাজ শেষে জামালপুর পৌর কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারত করতে যান ওয়াহিদুল করিম খান তন্ময়। কবর জিয়ারত শেষে বাসায় ফেরার সময় পৌর কবরস্থানের গেটে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ভুক্তভোগীকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান ওই ছাত্রলীগ নেতা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তার অনুসারীরা।
আহত ওয়াহিদুল করিম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে শহরের রানীগঞ্জ বাজার এলাকার গ্লোকজ ফ্যাক্টরী মোড় মোটরসাইকেল নিয়ে অতিক্রম করার সময় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের গাড়ি আমাকে চাপ দেয়। এ নিয়ে তার (আনোয়ার) গাড়ির চালকের সঙ্গে আমার বাকবিতন্ডা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে কবরস্থানে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। আমাকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমি বিচার চাই।’
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ওয়াহিদুল করিম খান আমার বন্ধুর ছোট ভাই। আমি তাকে কেনো মারতে যাবো। তাকে শাসন করতে হলে আমি সামনা-সামনি করবো। গতকাল রাতে আমার মেয়ে গাড়ি নিয়ে শহরে গিয়েছিল। তখন ওয়াহিদুল করিম মুঠোফোনে কথা বলছিল। সেই সময় আমার গাড়ির সঙ্গে নাকি সামান্য ধাক্কা লেগেছিল। তাতেই ওয়াহিদুল করিম তন্ময় আমার মেয়ে ও ড্রাইভারকে বকাবকি করে। পরে আমি ওয়াহিদুল করিমের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছি। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে অন্য কেউ মারতে পারে।’
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, ‘আমি ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
