মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চাঁদপুরসহ চার জেলার কিছু অংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০২:৫০ এএম

১০০ বছরের মধ্যে যশোর থেকে গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ থেকে চাঁদপুর ও চাঁদপুর থেকে ফেনী এসব অঞ্চলের দক্ষিণাংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে বলে মনে করেন পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তার আশঙ্কা, এ পরিবর্তন ৫০ বছরের মধ্যেও হয়ে যেতে পারে। এমনকি ঢাকার চারপাশের জমিও লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে।

গতকাল শনিবার পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর আয়োজনে ‘উপকূলের জীবন-জীবিকা : সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব কথা বলেন তিনি। ১৯৫টি দেশ একমত হওয়ার পর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইপিসিসি।

রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এই সারির মধ্যাঞ্চল লবণাক্ত হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, ঢাকা শহর খুব উঁচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ২৫ ফুট। ঢাকা শহরের চারপাশ লবণাক্ত হয়ে যাবে। কামরাঙ্গীরচর বা জিঞ্জিরার উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট। এসব এলাকা পানির তলায় চলে যেতে পারে।

সংলাপে বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোয়। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে সেখানে লবণাক্ততার পরিমাণও বাড়ছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৩ শতাংশ পরিবার সুপেয় পানি পানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া ১২ বছরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ।

তারা আরও বলেন, ৩৫ বছরে উপকূলীয় অঞ্চলে আগের তুলনায় লবণাক্ততা বেড়েছে ২৬ ভাগ। লবণাক্ততার পরিমাণ ২ থেকে বেড়ে ৭ পিপিটিতে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ আর কমছে জন্মহার। উপকূলে অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রি-একলাম্পশিয়া ও উচ্চ চাঁদপুরসহ চার জেলার কিছু অংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে

 রক্তচাপের হার ৬ দশমিক ৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া নারীদের জরায়ু রোগ, গর্ভকালীন ঝুঁকি, এমনকি অপরিণত শিশু জন্ম দেওয়ার হারও বেড়েছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘নদী দখল করে প্রস্তুত করা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। নদী দখল করে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যাবে না। নদী বাঁচাতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ধরার যুগ্ম আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ বলেন, ‘নদী হলো পাবলিক প্রোপার্টি। এই নদীতে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে কার সিদ্ধান্তে? নদীতে বর্জ্য ফেলা আইন করে বন্ধ করতে হবে। উপকূল রক্ষায় গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

সংগঠনের সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ‘যে কয়েকটি দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির ফলে বাংলাদেশের উপকূলের মানুষ এবং বাস্তুসংস্থান আজ সংকটে নিপতিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও নানাবিধ অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে উপকূলীয় মানুষের ভালোভাবে টিকে থাকা এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে।’

ধরার উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য এবং রোমান ক্যাথলিক চার্চ ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা ও ধরার যুগ্ম আহ্বায়ক এমএস সিদ্দিকী, ‘উপকূল রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। 

সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগের চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আলী এবং বেসরকারি সংস্থা ‘ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভের’ গবেষণা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল ফারুক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত