কিছুদিন পরেই পাকা আম বাজারে আসবে। আর আমগাছে এখন গুটি গুটি আম। এই সময়েই অনেকের আমগাছে ফল বা গুটিঝরা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমগাছের ফল ঝরা রোধে এই মুহূর্তে যা করতে হবে জানালেন কৃষিবিদ জাওয়াদুল করিম
মাটিতে রস বা পানির অভাবে আম ঝরে পড়লে : আমাদের দেশে মার্চ-এপ্রিল অর্থাৎ ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বৃষ্টিপাত কম হয়। এর ফলে মাটিতে রসের বা পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এ কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে । এই রকম সমস্যা হলে আমের গুটি মটরদানার মতো হলে গাছের গোড়া বেঁধে দিয়ে জমির ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার পানি সেচ দিতে হবে।
পোকার আক্রমণে আম ঝরে পড়লে : আমের গুটি মটরদানা বা মার্বেল আকৃতির হলে হপার ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণের কারণে ফল ঝরে পড়তে পারে। এ রকম হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক- কর্ট, প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক অটোমিডা ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে পারেন।
রোগের কারণে আম ঝরে পড়লে : অ্যানথ্রকনোজ ও পাউডারি মিলডিও রোগের কারণে আমের গুটি ঝরে পড়তে পারে। এই রোগ হলে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক কমপ্যানিয়ন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া প্রপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: টিল্ট, প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করা। আবার ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: এগ্রিজেব বা ম্যানসার, প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
সারের অভাবে ঝরে পড়লে : অনেক সময় আমগাছে সারের অভাবও দেখা দেয়। তাই বর্ষার আগে ও বর্ষার পরে বছরে দুই বার গাছের গোড়ায় সার দিতে হবে। বোরন সারের অভাবে ফল ঝরে ও ফেটে যেতে পারে। তাই প্রতি লিটার পানিতে ১.৫-২ গ্রাম হারে সলুবোরন মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। এছাড়াও ফুল ফল ঝরা বন্ধে পি জি আর যেমন ফ্লোরা বা মিরাকুলান বাবায়োগ্রিন বা বলবান এই সবের যে কোনো একটি ১ মিলি হারে স্প্রে করা যাবে।
