শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্যাট হাতে জবাব দেওয়ার দিন আজ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৭ এএম

সাত ক্যাচ ড্রপের সুবিধা নিয়ে শ্রীলঙ্কার কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেননি। অন্যভাবে বললে, বাংলাদেশের বোলার ফিল্ডাররা তাদের করতে দেননি। তবুও রান উঠে গেছে শ্রীলঙ্কার ৫৩১। তার জবাব দিতে নেমে সাগরিকায় কাল বিকেলে ভালো শুরু করেছে বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয় আউট না হলে ৫৫ রান দুর্দান্ত শুরু বলা যেত।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসান মিলে এর আগে ইনিংস উদ্বোধন করেন ৮ বার। ওই ৮ বারে তারা করেন ১২৯ রান। সর্বোচ্চ ৩৯ রান এসেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে। গতকাল এ দুজন ছাপিয়েছেন নিজেদের, গড়েছেন ৪৭ রানের জুটি। এর পরই মাহমুদুল হাসান জয় লাহিরু কুমারার বলে বোল্ড হয়ে যান। ৪২ বলে ২১ রান করেন জয়। আরও এক দফায় নাইট ওয়াচ ম্যান হিসেবে নিজের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন তাইজুল ইসলাম। রানের খাতা না খুললেও ৯ বল টিকে থেকে দিন শেষ করেন। অন্যপ্রান্তে জাকির হাসান অপরাজিত আছেন ৩৯ বলে ২৮ রানে। শ্রীলঙ্কার ৫৩১ রানের জবাবে বড় স্কোর গড়তে পারবেন কি না সেটাই দেখার।

বাংলাদেশের ভাবনায় আজ সারা দিন ব্যাট করার। ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প জানিয়েছেন, ‘আমরা এখনো জেতার কথা চিন্তা করেই খেলছি। শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগছে। কারণ, আমরা ৪৮০ রানে (আসলে ৪৭৬) পিছিয়ে আছি। তবে আপাতত আমাদের আগামীকালের (আজ) দিনটা পার করতে হবে। যদি তা করতে পারি, আমরা পরের দিনটাও সামলে নেব। যদি তা করতে পারি, তাহলে যেকোনো কিছুই হতে পারে। প্রথমত, আমাদের আগামীকালের তিন সেশন জিততে হবে।’

সেঞ্চুরিহীন রেকর্ড সংগ্রহ

শ্রীলঙ্কার ৬ জন ব্যাটসম্যান পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন। এরমধ্যে দুজন আশি, দুজন নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে আউট হয়েছেন। সেঞ্চুরিহীন এরকম বড় ইনিংস ৪৮ বছর পর প্রথম দেখা গেল। ১৯৭৬-এর কানপুরে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৫২৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ভারত, যে ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না। সেই রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। প্রথম দিন তিনটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন জয়, মিরাজ, সাকিব। কাল পড়েছে আরও ৪টি। শেষটি ছিল কামিন্দু মেন্ডিসের। ৬০ রানের মাথায় তার ক্যাচটি ছাড়েন হাসান, তাইজুল ইসলামের বলে। এরপর সেঞ্চুরির কাছাকাছি প্রায় চলেই গিয়েছিলেন সিলেটে জোড়া সেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি। তাইজুলেরই এক ওভারে শেষ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইকে থাকার চেষ্টা ছিল কামিন্দুর। তাইজুল বল করার সঙ্গে সঙ্গেই নন-স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে বেরিয়ে যান আসিথা ফার্নান্দো। কামিন্দুর স্ট্রেইট ড্রাইভ ধরে স্টাম্প ভাঙেন বোলার নিজেই। তাতেই শেষ হয় চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার ১৫৯ ওভারের ইনিংস।

সিলেট টেস্টের আরও জোড়া সেঞ্চুরিয়ান ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ৭০ রানে আউট করেন খালেদ আহমেদ। তার আগে ফিফটি করা দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে ৮৬ রানের জুটি গড়েছিলেন। চান্দিমালকে সাকিবের আউটই গতকাল প্রথম সেশনে বাংলাদেশের একমাত্র শিকার।

৫ উইকেটে ৪১১ রানে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় লঙ্কানরা। দ্বিতীয় সেশনে শুরুতেই ধনঞ্জয়াকে ফেরান খালেদ আহমেদ। ফেরাতে পারতেন প্রবাথ জয়সুরিয়াকেও। প্রথম  স্লিপে আসা ক্যাচ নিতে পারেননি শান্ত-দীপু-জাকির ত্রয়ী। শান্তর হাত ফসকে বল যায় দীপুর কাছে। তার হাত ছুঁয়ে আসা ক্যাচ নিতে পারেননি তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো জাকিরও। প্রবাথ তখন খেলছিলেন ৬ রানে। ২৩ রানে দ্বিতীয় দফায় প্রভাতের ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। জুটিতে ৬৫ রান যোগ করার পর তাকে থামান সাকিব। এই উইকেট নিয়ে টেস্টে কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্সের শিকারকে ছাড়িয়ে যান বাঁহাতি এই স্পিনার।

তৃতীয় সেশনে শান্ত সরাসরি থ্রোয়ে বিশ্বকে আউট করে কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করেন। এরপর মিরাজ বোল্ড  করে ফেরান লাহিরুকে। আর সবশেষে তাইজুল আসিথাকে রান আউট করলে থামে লঙ্কানদের ইনিংস।

চট্টগ্রামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বোলারদের হাড়ভাঙা শ্রমে আসে এক একটা উইকেট। বোলারদের কঠোর পরিশ্রমের কথা ভেবে হলেও এসব ক্যাচ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প। ‘আমরা এটা (ক্যাচ নেওয়ার দুর্বলতা) অস্বীকার করতে পারি না। এটা স্পষ্টতই ঘটছে। আমরা কিছু কাজ করছি। কেউ ক্যাচ মিস করতে চায় না কিন্তু বোলাররা যখন সুযোগ তৈরি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, আপনাকে সেই সুযোগগুলো নিতে হবে’ দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন হেম্প।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত