সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তিন মাসে ৮১ সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০৩ এএম

দেশে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৮১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এ সময়ে বিভিন্ন বয়সী ১১৪ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আসক। তারা বলেছে, গত তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, সীমান্তে হত্যা, সাংবাদিক নিপীড়নসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে।

দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানাকে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে একজন সাংবাদিককে কারাগারে প্রেরণ রাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের যে অনাকাক্সিক্ষত আচরণ বিদ্যমান রয়েছে, এ ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।’

আসকের প্রতিবেদনে গত ১৪ মার্চ লালমনিরহাট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পাঁচজন সাংবাদিকের লাঞ্ছিত হওয়া, ময়মনসিংহ নগরীর সমস্যা নিয়ে পোস্টার এবং গ্রাফিতির মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কবি ও গ্রাফিক ডিজাইনার শামীম আশরাফকে গ্রেপ্তার, জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চার সাংবাদিক মারধরের ঘটনা, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১৩ জন সাংবাদিকের বাধার সম্মুখীন হওয়ার মতো খবর উঠে এসেছে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা উল্লেখ করে আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে ঢাকার লালবাগ এলাকায় মো. ফারুক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা আবশ্যক বলে মনে করে আসক।

রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২৬৮টি। এতে নিহত হয়েছে ২৩ জন এবং আহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৬৮ জন।

এ ছাড়া তিন মাসে কারা হেফাজতে ৩৫ জন মারা গেছে বলে আসকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে কয়েদি ১৪ এবং হাজতি ২১ জন। তিন মাসে ২০টি ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩টি বাড়িঘরসহ ২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আসক। এ ছাড়া ১৫টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন মাসে যৌন হয়রানিকেন্দ্রিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী-পুরুষ, যাদের মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন ৫৫ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ। এর মধ্যে বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত ৪৫ জন, বখাটেদের উৎপাতকে কেন্দ্র করে সংঘাতে আহত হয়েছেন ২৬ জন। যৌন হয়রানির কারণে একজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটের হাতে চারজন পুরুষ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১৪ নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩ জন নারীকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন একজন নারী। এ ছাড়া ৩১ জন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এ সময়ে ১৩৭ জন নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, এর মধ্যে ৬৫ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৪৯ জন নারী। দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন মাসে ৩২৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছে ১৩৯ শিশু এবং ১ ছেলেশিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে ২৭ শিশু, বিভিন্ন সময়ে ৩২ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বলাৎকারের শিকার হয়েছে ১৪ ছেলেশিশু এবং বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়েছে ১ শিশুকে। এ ছাড়া তিন মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ৬ বাংলাদেশি। আহত হয়েছেন ৪ জন। অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তে মর্টার শেলের আঘাতে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন নিহত হন। তিন মাসে গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হন ১৭ জন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত